কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৩২

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি বেড়ে ৩২
বন্যা ও পাহাড়ী ঢলে মারা যাওয়া দুই জন। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজারে টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রাণহানি বাড়ছে। চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ভেসে নিখোঁজ হওয়ার ২২ ঘণ্টা পর এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। অন্যদিকে জেলার রামু উপজেলায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ দুই ঘটনায় জেলায় পাহাড়ধস ও বন্যাজনিত দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে  ৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন রোহিঙ্গা।

চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল এলাকায় গত শনিবার বিকালে সোনাইছড়ি নদীর বানের পানিতে ভেসে নিখোঁজ হয় সজিব দাস (১৩)। দীর্ঘ ২২ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর রোববার বিকালে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আক্তার আহমেদ বলেন, ‘নিহত সজিব দাস কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবর ডেইলপাড়ার তুফান দাসের ছেলে। সে চকরিয়ার কৈয়ারবিলে তার নানী রুপী দাসের কাছে থাকত। বন্ধুদের সঙ্গে বের হয়ে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের টানা ২২ ঘণ্টার চেষ্টার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’

চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, ‘আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ বহনের অ্যাম্বুলেন্স ভাড়াসহ নগদ ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে রোববার সন্ধ্যায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া বাজার-নাইক্ষ্যংছড়ি সংযোগ সড়কের কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফাক্রিকাটা গ্রামের একটি কালভার্টসংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে মারা যান নিরঞ্জন দাশ (৬৫)।

আরও পড়ুন

নিহত নিরঞ্জন দাশ কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের দোছড়ি পূর্ব দাশপাড়ার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বিমল দাশের বড় ভাই।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নাইক্ষ্যংছড়ি স্টেশন এলাকার একটি সোনার দোকানে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকা সড়ক পার হওয়ার সময় পা পিছলে পড়ে যান নিরঞ্জন দাশ। এ সময় পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে তিনি ভেসে যান। খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভুঁইয়া বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে যাওয়া বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধারের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যা পরিস্থিতিতে নদী, খাল ও নিম্নাঞ্চলে চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তারা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad