যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার ২৫ বিষয়ে খাতা চ্যালেঞ্জ করে পুনঃনিরীক্ষণের জন্য ৭৪ হাজার ৭১৭ টি আবেদন পড়েছে। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম হোসেন বলেন, এবারের এসএসসি পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ করে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন ১১ আগস্ট থেকে শুরু হয়। সাতদিন আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়। সাতদিনের মধ্যে ২৫ বিষয়ে ৭৪ হাজার ৭১৭টি আবেদন জমা পড়েছে।
এসব আবেদনের মধ্যে বাংলা প্রথমপত্রে ৩ হাজার ৭১৪টি, বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ৩ হাজার ৭১৪টি, ইংরেজি প্রথমপত্রে ১৫ হাজার ৩৪৩টি, ইংরেজি দ্বিতীয়পত্রে ১৫ হাজার ৩৪৩টি, সাধারণ গণিতে ৭ হাজার ১৭টি, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞানে ১ হাজার ৮৭৩টি, ইসলাম শিক্ষায় ১ হাজার ৬৫২টি, হিন্দু ধর্মে ৩৮৬টি, খ্রিস্টান ধর্মে ৪টি, উচ্চতর গণিতে ৩ হাজার ৯টি, সাধারণ বিজ্ঞানে ১ হাজার ৮৬০টি, কৃষিশিক্ষায় ১ হাজার ৬৩৭টি, পদার্থবিজ্ঞানে ৩ হাজার ৬৯৮টি, রসায়ন ৪ হাজার ৪৮৫টি, জীববিজ্ঞানে ২ হাজার ৮১৭টি, পৌরনীতি ও সুশাসনে ৪৯০টি, অর্থনীতিতে ৫৯৫টি, ব্যবসা উদ্যোগে ২১৮টি, হিসাববিজ্ঞানে ৪৮৯টি, চারুকলায় ৬টি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৩ হাজার ৪১৪টি, গার্হস্থ বিজ্ঞানে ৪০টি, ফিন্যান্স ও ব্যাংকিংয়ে ৩৩৮টি, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১ হাজার ৯২৫টি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৬৫০টি আবেদন পড়েছে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বলেন, ‘এবারের এসএসসি পরীক্ষায় যারা খাতা পুনঃমূল্যায়নে আবেদন করেছে। তাদের প্রতিটি খাতা পুনঃমূল্যায়ন করা হবে। খাতায় নম্বর প্রদান ও নিরীক্ষণে ভুল থাকলে সঠিক করে দেওয়া হবে। যেসব শিক্ষকদের ভুল ধরা পড়বে তাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
যশোর জেলা স্কুলের শিক্ষার্থী শিহাব বলেন, সব বিষয়ে ৮০ নম্বরের বেশি পেলেও বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ১৫৮ নম্বর পেয়েছে। তাই বাংলা বিষয়ে পুন:মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে।
যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ৩ বিষয়ে ৭৯ এবং ৩টি বিষয়ে ৭৮ করে নম্বর পেয়েছে। সে পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে। মণিরামপুরের মশিয়াহাটি এলাকার সুদেব পাল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, হিন্দু ধর্মবাদে সব বিষয়ে ৮০ নম্বরের উপরে পেয়েছে। ধর্মে পেয়েছে মাত্র ৪২। সে ওই বিষয়ে আবেদন করেছে।
যশোর বোর্ডে এক লাখ ৪১ হাজার ৬৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ পাস করে। ১০ আগস্ট পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে এবং ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন শুরু হয়।


