গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের বাসভবনের ব্যারাক থেকে হাবিবুর রহমান (নায়েক ৬০৫) নামের এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনের সরকারি বাসভবনের ব্যারাক থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম।
নিহত নায়েক হাবিবুর রহমানের (৩৩) বাড়ি নিলফামারী জেলার সদর উপজেলার সরদার পাড়ায়। তিনি ওই এলাকার মন্টু মিয়ার ছেলে। তার সাত বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঢাকা থেকে চলতি বছরের ১২ আগস্ট গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের বাংলোতে গার্ড নায়েক হিসেবে যোগদান করেন হাবিবুর রহমান। সেখানে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তারা বুধবার দুপুরে ব্যারাকের ওয়াশরুমের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ পান। এতে সন্দেহ হলে ব্যারাকের গার্ড কমান্ডার সোহেল মিয়া কয়েকবার হাবিবুরকে ডাকেন। এতে সাড়া না মেলায় ওয়াশরুমের দরজা ভেঙে হাবিবুরকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে মরদেহ উদ্ধার কওরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাব্বির হোসেনের উপস্থিতির সুরতহাল রিপোর্ট করে পুলিশ।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল ব্যারাকের অন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও গার্ড কমান্ডার সোহেলের বরাতে বলেন, ‘আজ দুপুরে মোবাইল ফোনে হাবিবুর তার স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে ঝগড়া করছিলো। ঝগড়ার একপর্যায়ে সে ওয়াশরুমে প্রবেশ করে এবং স্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কলে থেকে আত্মহত্যা করে।’
গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ওয়াশরুমে গলায় গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন নায়েক হাবিবুর রহমান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল কর হয়। মরদেহ ময়নাতদস্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক কলহ থেকে এই আত্মহত্যা ঘটিয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।’


