বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ছে ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’। মুক্তির এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই বিশ্বজুড়ে ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করে ছবিটি নির্মাতার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়েছে।
১৭ জুলাই মুক্তি পাওয়া ছবিটি নির্মিত হয়েছে প্রাচীন গ্রিক কবি হোমারের মহাকাব্য ‘দ্য ওডিসি’ অবলম্বনে। এতে ট্রয় যুদ্ধ শেষে ১০ বছরের দীর্ঘ ও বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা পেরিয়ে নিজ রাজ্য ইথাকায় ফেরার চেষ্টায় থাকা গ্রিক রাজা ওডিসিউসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন।
বিশ্বব্যাপী ছবিটির আয় এখন ১ দশমিক ১০৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্য দিয়ে নোলানের আগের সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা ‘দ্য ডার্ক নাইট রাইজেস’-কে পেছনে ফেলেছে ‘দ্য ওডিসি’। ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যাটম্যান সিরিজের ছবিটি বিশ্বব্যাপী আয় করেছিল ১ দশমিক ০৮৫ বিলিয়ন ডলার। এর আগে ২০০৮ সালের ‘দ্য ডার্ক নাইট’ আয় করেছিল ১ দশমিক ০০৫ বিলিয়ন ডলার।
অস্কারজয়ী নোলানের পরিচালনায় এর আগে ‘ইন্টারস্টেলার’, ‘ডানকার্ক’, ‘টেনেট’ ও ‘দ্য ডার্ক নাইট’ ট্রিলজির মতো সিনেমা বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে। ‘দ্য ওডিসি’র সাফল্যের পর তার পরিচালিত সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বৈশ্বিক আয় ৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
নোলান নিজেই ছবিটির চিত্রনাট্য লিখেছেন ও পরিচালনা করেছেন। প্রযোজনাতেও ছিলেন তিনি, সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী ও দীর্ঘদিনের প্রযোজনা সহযোগী এমা থমাস।
তারকাবহুল এই ছবিতে ম্যাট ডেমনের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন অ্যান হ্যাথাওয়ে, রবার্ট প্যাটিনসন, জেনডায়া, টম হল্যান্ড, শার্লিজ থেরন ও লুপিতা নিয়ং’ও। ছবিটি ডেমন, হ্যাথাওয়ে ও প্যাটিনসনের ক্যারিয়ারেও সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমা।
প্রায় তিন ঘণ্টার এই মহাকাব্যিক সিনেমাটি মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে প্রথম স্থান দখল করে এবং টানা দুই সপ্তাহ শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখে। সমালোচকদের কাছ থেকেও পেয়েছে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া।
‘দ্য ওডিসি’র নির্মাণে বিপণন ব্যয় বাদে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ২৫০ মিলিয়ন ডলার । ফলে এটি নোলানের ক্যারিয়ারের অন্যতম ব্যয়বহুল সিনেমাও।
ইউনিভার্সাল পিকচার্সের কর্মকর্তাদের মতে, বড় পর্দায় নোলানের সিনেমা দেখার প্রতি দর্শকদের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, ‘দ্য ওডিসি’র সাফল্য তারই প্রমাণ। বিশেষ করে প্রিমিয়াম ফরম্যাটে বারবার সিনেমাটি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন দর্শকেরা।
এ বছর বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা ইউনিভার্সালের তৃতীয় সিনেমা ‘দ্য ওডিসি’। এর আগে ‘দ্য সুপার মারিও গ্যালাক্সি মুভি’ এবং ‘মাইকেল’ এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে।


