স্ত্রী ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী ওরফে মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না। তার জামিন আদেশের ওপর আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশ থাকায় মুক্তি আটকে গেছে।
এ বিষয়ে গত ৭ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে অভিনেতা আলভীকে কারামুক্তি দেওয়া সম্ভব না হওয়ার কারণ জানিয়ে একটি চিঠি ও ব্যাখ্যা ঢাকার সিএমএম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আদালতের নথি থেকে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের কার্যালয় থেকে চিঠিটি ইস্যু করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, জাহের আলভীকে জামিনে মুক্তির বিষয়ে আদালতকে জানানো হয়েছে।
কারাগার কর্তৃপক্ষের চিঠিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মামলায় হাইকোর্টের রিলিজ আদেশ গত ৬ আগস্ট কারাগারে পৌঁছায়। এর আগে ২ আগস্ট হাইকোর্টে দেওয়া জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। পরে জামিনে মুক্তির ওপর স্থগিতাদেশের বিষয়টি জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর স্বাক্ষরিত একটি চিঠি ৪ আগস্ট কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়।
এ কারণে আলভীকে ওই মামলায় মুক্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ৩ আগস্ট বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন মঞ্জুর করেন। অধস্তন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন তিনি। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন। পরে শুনানি শেষে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়।
আদালতে জাহের আলভীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী শেখ রফিকুল ইসলাম শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ইকরার লাশ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন আলভী। সেদিন আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য আলভীকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে গত ২১ জুন আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে আদালত ২৪ জুন তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


