শাসকদের ফ্যাসিস্ট হওয়া ঠেকাতে ভূমিকা রাখবে শেখ হাসিনার রায়

শাসকদের ফ্যাসিস্ট হওয়া ঠেকাতে ভূমিকা রাখবে শেখ হাসিনার রায়
শাহবাগে শেখ হাসিনার কুশপুতুল ও ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করা হয়। ছবি: জান্নাতুল ফেরদৌস/টাইমস
Advertisement
Advertisement

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদদের ফ্যাসিস্ট হওয়ার চিন্তা থেকে বের হতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন দেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। টাইমস অব বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন মতামতই দিয়েছেন তারা।

তারা বলছেন, বাংলাদেশের কোনো দল বা ব্যক্তি ভারতের সহায়তা নিয়ে ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হবে। এছাড়া রাজনীতিবিদেরা যদি শিক্ষা নিয়ে পথ চলে তাহলে আগামীতে দেশের গণতান্ত্রিক মসৃণ পথ এবং সহনশীল রাজনৈতিক ধারা তৈরি হতে পারে।

দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার রায়ে সাময়িকভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের জন্যে রাজনীতি সামনে কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মত উঠে এসেছে। সবমিলিয়ে এ রায় দেশের সকল মহলের জন্যে একটি বিশেষ বার্তা বলেও মনে করছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও বিশ্লেষকরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী টাইমস’কে বলেন, ‘এই রায়ে দুটি বিশেষ বার্তা রয়েছে। একটি হচ্ছে–ফ্যাসিস্ট হতে চাইলে তাদেরকে দেশের মানুষ বিচারের মুখোমুখি করবে।’

‘অন্যটি হচ্ছে, দেশের মানুষের মতামত উপেক্ষা করে যারা শেখ হাসিনার মতো ভারতের সহায়তায় টিকে থাকতে চান, সেটিও যে দীর্ঘস্থায়ী নয় এখানে তারও প্রতিফলন রয়েছে।’

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা এত বড় অপরাধ করেও ক্ষমা চাননি; তার মধ্যে কোনো অনুশোচনাও নেই। শেখ হাসিনার এই মানসিকতা আওয়ামী লীগকে আরও বিপদে ফেলবে। দলের কর্মীদের জীবনকে অনিশ্চতায় ফেলে দেবে।’

বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, আগেও এদেশে নানা কারণে অনেক সরকার প্রধানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সাজা হয়েছে। কিন্তু এরপরও রাজনীতিবিদরা ফ্যাসিস্ট চিন্তা এবং অপশাসন থেকে সরে আসেননি। বরং ক্ষমতায় এসে নিজেদের নামে থাকা মামলা প্রত্যাহার করার পাশাপাশি ভিন্নমত দমন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, শেখ হাসিনার রায় থেকে শিক্ষা নিয়ে রাজনীতিবিদদেরকে অতীতের ধারা থেকে বের হয়ে আগামী দিনের পথ চলতে হবে। যদি রাজনীতিবিদরা শিক্ষা নেয় তাহলে ভালো কিছু হতে পারে।

এর আগেও দেশের রাজনীতিবিদেরা অনিয়ম-দুর্নীতি করে সাজা পেয়েছেন। তবে ক্ষমতার পালাবদলে তা আবার প্রত্যাহার হয়েছে। এতে প্রমাণ হয় যে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা হয়নি; যোগ করেন তিনি।

তার মতে, শেখ হাসিনা যে দল এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছেন সেটি তিনি মানতে চান না। অর্থাৎ তার সেই আগ্রাসী মনোভাব এখনো যায়নি। তার উচিত ছিল ব্যর্থতার দায়ে ক্ষমা চেয়ে সরে যাওয়া। কিছু ভালো মানুষদের দিয়ে আওয়ামী লীগকে রিফাইন্ড করা। সেটি না করে এখনো নেতৃত্ব ধরে রাখায় চেষ্টা করায় সামনে কর্মীদের বিপদ বাড়বে, দল অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

এছাড়া সিপিবিসহ বাম ঘরানার কয়েকজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের সঙ্গেও কথা বলেছে টাইমস। তারা বলছেন, ব্যক্তির অপশাসন একটা পর্যায়ে দল এবং পরে দেশের ক্ষতি বয়ে আনে। সেজন্য দল এবং দেশে গণতন্ত্র চর্চার কোন বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার রায় সে বার্তাই দিচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad