কক্সবাজারে এক শিক্ষিকাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক এস. এম. জিল্লুর রহমান এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা এলাকার বেদার মিয়া, একই ইউনিয়নের পরানিয়া পাড়ার মোস্তাক মিয়া ও ঝিলংজা ইউনিয়নের খরুলিয়া বেপারী পাড়ার মো. বেলাল উদ্দিন।
ভুক্তভোগী নারী (২৫) কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি পেশায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকা।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাওহীদুল আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট সকালে একটি অনুষ্ঠান শেষে ইজিবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন ওই শিক্ষিকা। তিনি ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে অনুসরণকারি তিন যুবক গতিরোধ করে তার ইজিবাইকটি থামায়। পরে ঝিলংজা ইউনিয়নের চাঁন্দের পাড়া এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে ওই নারীকে তারা ধর্ষণ করে।
এই ঘটনায় ২৩ আগস্ট ওই শিক্ষিকা বাদী হয়ে বেদারসহ অজ্ঞাত তিন জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট মামলার অভিযোগ গঠন করে আদালত।
মামলায় নয় জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। দীর্ঘ শুনানি ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক রায় ঘোষণা করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
তাওহীদুল আনোয়ার জানান, আসামি বেদার মিয়া, মোস্তাক মিয়া ও মো. বেলাল উদ্দিনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯(৩) ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দেওয়া হয়।
এই মামলায় আসামিরা যে সময়টুকু কারাগারে কাটিয়েছেন তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ যাবে বলেও জানান তিনি।


