সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সরকারি খাস পুকুর নিয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দুই বিএনপি কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত আছমত আলীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুর রায়গঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম কিবরিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এ ঘটনার মূলহোতা আছমত আলী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা। তিনিসহ তার দুই সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকি দুজন হলেন তরিকুল ও আশরাফ আলী। এদের তিনজনেরই বাড়ি রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে।
বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, রায়গঞ্জ উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে সরকারি খাস পুকুর নিয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত আছমত আলী ও ধামাইনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল।
আছমত আলী পুকুরটি গোয়ালপাড়া মসজিদের নামে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে আসছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপি নেতা আবু বক্কর সিদ্দিক পুকুরটি ৩ বছরের জন্য লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবু বক্কর সিদ্দিক তার লোকজন নিয়ে মাছ মারার জন্য পুকুরে জাল ফেলেন। এসময় আছমত আলী তার লোকজন নিয়ে মাছ মারতে বাধা দেয়। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে চলাকলে উভয়পক্ষ ধারালো অস্ত্র, হাঁসুয়া, দা, লাঠি-সোঁটা নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ করে। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়।
৯৯৯ নম্বরে টেলিফোন পেয়ে রায়গঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে বিএনপি কর্মী রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া গ্রামে মৃত মমছের আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন (৭০) ও একই গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে আব্দুস সালামের (৬০) মৃত্যু হয়।


