রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে অনুপস্থিত থাকলেও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা সারাদেশে এখন ভোটের মাঠে। দলের ‘নো বোট নো ভোট’ স্লোগান দিয়ে ভোট বর্জনের আহ্বান জানালেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ কর্মী-সমর্থকদের বড় অংশ বিএনপি বা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন, আবার অনেকে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছেন। সম্প্রতি ঢাকা, মাদারীপুর, রাজশাহী ও ফরিদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধান বলছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা চাপে রয়েছেন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের একটি অংশ বিদেশে অবস্থান…
Author: এম. সাইফুল ইসলাম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি আসনে এগিয়ে আছে জামায়াতে ইসলামী। বড় দল বিএনপি এগিয়ে ১২টিতে, একটিতে এগিয়ে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী। বাকি পাঁচ আসনে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। টাইমস অব বাংলাদেশের অনুসন্ধানে স্থানীয় ভোটার ও বিশ্লেষকদের মতামতের ভিত্তিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে, শেষ সময়ে ৬/৭টি আসনের ফলাফলে নাটকীয় পরিবর্তন হতে পারে। যার মধ্যে কোনো কোনো আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা আরও বেশি ভোট কাটলে সুবিধা পাবে জামায়াত। আবার কোনো কোনো বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ মুহূর্তে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে চলে গেলে বাড়তে পারে বিএনপির আসন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সমর্থকরা বড় আকারে ভোটকেন্দ্রে গেলেও বেশ…
দুর্নীতি ও চাঁদাবাজবিরোধী কঠোর অবস্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে জোর দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করেছে জামায়াতে ইসলামী। অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিচারব্যবস্থাসহ প্রায় ২৫টি খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। দলের একাধিক নেতা ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে জানান, তারা ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ টাইমস’কে বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়তে সময়োপযোগী ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। এতে জুলাইয়ের চেতনা যেমন গুরুত্ব পেয়েছে, তেমনি মহান মুক্তিযুদ্ধও যথাযথ…
ভোটের মাঠে নিজ দলের পক্ষে প্রচারণার চেয়ে গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে জোরালো ক্যাম্পেইন চালিয়ে আলোচনায় থাকতে চায় জাতীয় পার্টি (জাপা)। ভালো ফলাফলের কোনো সম্ভাবনা না থাকায় লাভ-ক্ষতির হিসেবে দলটি ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইনকে বেছে নিয়েছে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নানা আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৯৫ জন প্রার্থী নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রয়েছে দলটি। যদিও দলটির সাংগঠনিক অবস্থা এখন বেশ নাজুক অবস্থায়। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত দলটির সঙ্গে সথ্যতা রেখে চলা জাপা ‘ফ্যাসিস্ট’র সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় এবারের নির্বাচনে মাঠে নানান চাপে রয়েছে। তারপরও বড় ধরনের বাধাবিপত্তি ছাড়াই নির্বাচনের প্রচারণা চালোচ্ছে জিএম কাদের-এর নেতৃত্বাধানী…
ভোটের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনের মতো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনও অনেকটাই ‘উৎসবহীন’ হতে চলেছে। চারটি নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বড় দলগুলো নির্বাচনে বাইরে থাকায় সমর্থকদের বড় একটি অংশ ভোট বিমুখ হওয়ায় যার অন্যতম কারণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, দল ভোট বর্জন করলে সমর্থকদের কেউ কেউ ভোট দিতে গেলেও তাদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ থাকে না। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভোটারদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা থাকায় তাদের মাঝে ভোট উৎসব নেই। অনুসন্ধান বলছে, ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ, যার মাধ্যমে…
জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি দলটি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণায় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি ওয়াশিংটন পোস্টের এক সংবাদ প্রকাশের পর রাজনীতি বা নির্বাচনী মাঠে নানা মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের ‘গোপন আঁতাতে’র অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষকরা এমন মতামত দিচ্ছেন। তাদের মতে, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ বৃদ্ধি পাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। দলটি এখন অনেকটাই পশ্চিমা দেশটির আস্থায় রয়েছে। যার নেপথ্যে রয়েছে, দেশটির নিজস্ব স্বার্থ এবং দক্ষিণ এশীয় নীতি। সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আগে থেকেই জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার যোগযোগ ছিল। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মাঠে এখন…
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না শেষ পর্যন্ত জামায়াত নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটে যোগদান করছেন। দুই-একদিনের মধ্যে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে পারে বলে দুই দলেই জোরেসারে আলোচনা চলছে। এনিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্নাও সরাসরি কিছু না বললেও কৌশলী বক্তব্য দিচ্ছেন। ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’কে তিনি বলেন, “আসলে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন সমঝোতা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। তাই কে কখন কোনদিকে যাচ্ছে তা বলা কঠিন।” জামায়াত জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “এখনো দলটির সঙ্গে এ বিষয়ে তেমন কথা হয়নি। হয়তো তারা (জামায়াত) নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে পারে।” জামায়াত জোটে যাওয়া নিয়ে ‘হাঁ’বা ‘না’ উত্তর এড়িয়ে তিনি বলেন, দেখা যাক।” বিএনপির…
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হওয়ার কথা ২২ জানুয়ারি, তার আগেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক অভিযোগে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংযম না থাকলে এবং ইসি কঠোর অবস্থান না নিলে প্রচার শুরু হওয়ার পর মাঠে সহিংসতা বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হচ্ছে এক ধরনের অচলাবস্থা। বিএনপির ছাত্রসংগঠন, ছাত্রদল ইসির সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে, পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এতে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে প্রায় সব বড় দলই ইসির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। বিএনপির অভিযোগ, মাঠ প্রশাসন ও ইসির…
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের প্রশাসন ইস্যুতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন মুখোমুখি অবস্থানে। বিএনপির অভিযোগ, নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ জামায়াতের পক্ষ নিচ্ছে, ফলে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকছে না। শেষ মুহূর্তে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর শঙ্কাও করছে দলটি, যার পাল্টা জবাব দিচ্ছে কৌশলী জামায়াত। তারাও সরকার ও বিএনপিকে চাপে রাখতে পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। রোববার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসির কর্মকর্তা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন। অন্যদিকে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তোলে।…
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে আসায় নির্বাচনী মাঠে বিএনপি জোট কিছুটা হলেও লাভবান হতে পারে। তবে, জামায়াত জোট ছেড়ে লাভবান হওয়ার পরিবর্তে নিজেদেরকে ক্ষতির দিকেই নিয়ে গেছে ইসলামী আন্দোলন। শুক্রবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াত জোট ছেড়ে ২৬৮ আসনে একক ভোট করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে রাজনীতির মাঠে লাভ-ক্ষতির হিসেবে মাঠের বাস্তবতা বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এমন অভিমত ব্যক্ত করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সারাদেশে ইসলামী আন্দোলনের কিছু সংখ্যক কর্মী সমর্থক রয়েছে। এককভাবে ভোট করায় দলটির ভোট এখন জামায়াত জোটের প্রার্থীরা পাচ্ছেন না। তাই, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা লাভবান হবেন। মাঠের…

