আগামী নভেম্বরের মধ্যে সারা দেশের ৫ হাজার ইউনিয়ন পরিষদে এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের বাকি আটটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর নামও চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে নগরের স্টেশন রোড এলাকার হোটেল সৈকতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। এর আগে ওই হোটেলেই এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এই আয়োজনের কথা আগে থেকেই জানানো হয়েছিল।
সারজিস আলম বলেন, ইতোমধ্যে দেশের ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পাঁচটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাকি আটটি সিটি কর্পোরেশনেও প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশে জনগণের সেবা করতে সরকারি দল হিসেবে এনসিপির উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দলটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজ করছে।
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, নানা উপায়ে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রথম ১৮০ দিনেই বিএনপি সরকার প্রমাণ করেছে যে তারা রাজনৈতিক চোরাবালির মধ্যে আটকে গেছে।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের নামে দলীয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তুষার বলেন, সরকারের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ শেষ। অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো সংস্কার এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় মব জাস্টিস বন্ধ করা না হলে এনসিপি রাজপথে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচি দিতেও দ্বিধা করবে না।
এর আগে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তৃত করা, দায়িত্বশীলদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেন নেতারা।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মুহাম্মদ একরামুল হকের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব আবদুল করিম টিপু ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলী নেওয়াজ ইমন।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সারজিস আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব রিফাত রশিদ, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম সুজা উদ্দিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব সাগুফতা বুশরা মিশমা, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সংগঠক জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রশক্তির খান তালাত মাহমুদ রাফি।


