জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলনে (কপ) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এই সম্মেলনে কেবল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নয়, বরং মহিলা ও শিশু; কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩০) অংশীজনের অংশগ্রহণ’ শীর্ষক কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা প্রায়ই শুধু পরিবেশের ক্ষতির দিকেই সীমাবদ্ধ থাকে। অথচ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতও এই পরিবর্তনের কারণে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন। কার্বন নিঃসরণে ধনী দেশগুলোর দায় রয়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ। অথচ ভুক্তভোগীর তালিকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি স্বল্প উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর হয়।’
‘তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শুধু মানুষ নয়, প্রাণিকূলও বিপদে পড়ে। কৃষিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।’
তিনি আরও জানান, এর আগে ধনী দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ কমাতে দেওয়া কথা রাখেনি। ধনী রাষ্ট্রগুলো কার্বন নিঃসরণ না কমিয়ে অথবা যেমন আছে সেভাবে রেখে গাছ লাগিয়ে বা টেকনোলজি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে দেশীয়ভাবে বা অঞ্চলভিত্তিক এবং আন্তর্জাতিকভাবে কাজ করে যেতে হবে।
কর্মশালার আয়োজন করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইমাম উদ্দীন কবীর।
বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-৩০) এর ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন- দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্টরা।


