ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এই শঙ্কা ছাপিয়ে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা।
তারা মনে করছেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তিগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি বা দেশি-বিদেশি কোনো ষড়যন্ত্রই নির্বাচন বানচাল করতে পারবে না।
অরাজক পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলো এখন নিজেদের ঐক্য জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, নির্বাচন নস্যাৎ করতে আগে থেকেই আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র চলছে। এরই একটি অংশ হলো ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড। এঘটনায় প্রমাণ হয়েছে ষড়যন্ত্র মোবিলায় সরকার ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যর্থ।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, এখন সারাদেশে একদিনে ৩০০ আসনে নির্বাচন করার মতো সক্ষমতা সরকারের আছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরং এমন পরিস্থিতে নির্বাচন করতে গেলে বহু মানুষের জীবনহানি ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সরকার আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর হলে এবং রাজনীতিবিদরা সতর্ক থাকলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার জানান, হাদি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের বার্তা দেওয়া হতে পারে। তবে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে তিনি কোনো সংশয় দেখছেন না।
রাজনীতিবিদদের বড় একটি অংশ মনে করছে, ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরাসরি জড়িত। কারণ, হামলাকারী ফয়সাল করীম ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতা। তারা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন ভণ্ডুল করা এবং জুলাই আন্দোলনের নেতাদের মনে ভীতি সঞ্চার করা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে বড় ধরনের দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রয়েছে। তবে কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টি করে গণতন্ত্র ও নির্বাচনের পথ রুদ্ধ করা যাবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দেশি-বিদেশি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইলেও তার দল কোনো উস্কানিতে পা দেবে না। সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াতে ইসলামী।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম-মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহীন বলেন, হাদির মৃত্যুর খবরের পর পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনা অত্যন্ত পরিকল্পিত। তার মতে, একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও আওয়ামী লীগ সম্মিলিতভাবে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তবে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তা আর সফল হবে না।
বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো ও জুলাই বিপ্লবের কর্মীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। জ্যেষ্ঠ নেতারা নেতাকর্মীদের কোনো ধরনের উস্কানিতে পা না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা বাড়িয়ে সতর্কভাবে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।


