বাদল রহমান একাধারে ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, চলচ্চিত্র আন্দোলনকর্মী। ১৯৪৯ সালের ৪ জুন জন্মগ্রহণকারী এ গুণি মৃত্যুবরণ করেন ২০১০ সালের ১১ জুন। তার অনবদ্য সৃষ্টি ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’। ১৯৮০ সালের ২৯ আগস্ট মুক্তি পেয়েছিল ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’। এ ছবির আগে বাংলাদেশে যে একদমই শিশুদের জন্য ছবি হয়নি তা নয়। তবে বলা হয়, এ ছবির হাত দিয়ে শিশুতোষ ছবির ধারা শুরু হয় বাংলাদেশে। আর এ ছবির পিছনের কারিগর বাদল রহমান। জার্মান লেখক এরিখ কাস্টনারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘এমিল আন্ড দি ডিটেকটিভ’ — ১৯২৯ সালে প্রকাশিত, পৃথিবীজুড়ে শিশুদের মনে জায়গা করে নেওয়া এক অ্যাডভেঞ্চার। সে উপন্যাস অবলম্বনে বাদল রহমান ছবি নির্মাণ করেন। ১৯৭৩…
Author: আহমেদ জামান শিমুল
কিছু শিল্পী আছে যারা শুধু জনপ্রিয়তার পিছনে ছুটেন না, তৈরি করেন স্বতন্ত্র পরিচয়— জনি ডেপ, তেমনই একজন। ১৯৬৩ সালের ৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে জন্ম নেওয়া জনি বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও প্রভাবশালী অভিনেতা। ক্যারিয়ারে তিনি যেমন অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিয়েছেন, তেমনি ব্যক্তিগত জীবন ও আইনি লড়াইয়ের কারণে থেকেছেন আলোচনার কেন্দ্রে। তবু একটি বিষয় নিয়ে প্রায় সবাই একমত—প্রচলিত হলিউড নায়কদের ছকে তিনি কখনোই নিজেকে বন্দি রাখেননি। অভিনেতা হওয়ার আগে জনি ডেপের স্বপ্ন ছিল একজন পেশাদার সংগীতশিল্পী হওয়া। কৈশোরেই তিনি স্কুল ছেড়ে দেন এবং বিভিন্ন ব্যান্ডে গিটার বাজাতে শুরু করেন। সেই সময় অভিনয়কে তিনি পেশা হিসেবে ভাবেননি। ডেপের জীবনের মোড় ঘুরে…
শুক্রবার সকাল। বিটিভিতে সিনেমা শুরু হওয়ার আগে থেকেই দাদি-নানিদের সঙ্গে অপেক্ষায় বসে থাকত পরিবারের ছোটরা। বিজ্ঞাপনের বিরতি, মাঝেমধ্যে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া — কিছুই যেন দমাতে পারত না সেই অপেক্ষাকে। এ রকমই একটি ছবি ছিল ‘চাঁপাডাঙার বউ’। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে যে ছবিটি এখনো বেঁচে আছে স্মৃতি আর আবেগের মিশেলে। ১৯৮৬ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় ছবিটি। পরিচালনায় ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক, যিনি এর আগে অভিনেতা হিসেবে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। রাজলক্ষী প্রোডাকশন্সের ব্যানারে নির্মিত এই ছবির গল্পের ভিত্তি ছিল বাংলা সাহিত্যের দিকপাল তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের একই নামের উপন্যাস। ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত সেই উপন্যাস ততদিনে দুই বাংলার পাঠকের কাছে পরিচিত ছিল। তারাশঙ্করের…
দর্শকের প্রত্যাশাকে বারবার চমকে দিতে পছন্দ করেন সাবিলা নূর। একেক কাজেই হাজির হন একেক রূপে। কখনো রোমান্টিক, কখনো রহস্যময়, আবার কখনো একেবারে ভিন্ন ঘরানার চরিত্রে। নিজের ক্যারিয়ারে এই বৈচিত্র্যকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাই তো ‘তাণ্ডব’ থেকে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’, আর এবার ‘রকস্টার’—প্রতিটি কাজেই খুঁজে নিয়েছেন নতুন চ্যালেঞ্জ। শাকিব খানের বিপরীতে দ্বিতীয়বারের মতো জুটি বেঁধেছেন তিনি। আজমান রুশো পরিচালিত সিনেমাটিতে ‘মিরা’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। নিজের অভিনয় দর্শন সম্পর্কে সাবিলা বলেন, আমি সবসময় ব্যতিক্রম চরিত্রে কাজ করতে চাই। যখন ‘তাণ্ডব’ করি, তখন দর্শক প্রত্যাশা করেনি আমাকে ‘লিচুর বাগানে’ গানে দেখবে। সেই…
তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ গত ঈদুল ফিতরে আলোচিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রগুলোর একটি। গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির আয়োজনে জেলার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বিশেষ প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। তবে স্থানীয় মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থীর বিরোধিতা ও হুমকির মুখে প্রদর্শনীটি বন্ধ হয়ে যায়। একই ঘটনায় কসবা উপজেলায় আরেকটি শো সাতটি পুলিশ যান মোতায়েন করে বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। প্রদর্শনীটির বিরোধিতাকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতারা প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেন। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং কোনো অবস্থাতেই এ প্রদর্শনী…
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩ এর পুরস্কারপ্রাপ্তদের গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগের তালিকা সংশোধন করে নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়েছে ২ জুন। নতুন প্রজ্ঞাপনে ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৩২টি চলচ্চিত্র ও শিল্পী-কলাকুশলীকে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যুগ্মভাবে আজীবন সম্মাননায় প্রয়াত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও প্রয়াত চিত্রগ্রাহক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আবদুল লতিফ বাচ্চুর নামের সঙ্গে চিত্রনায়িকা ঝর্ণা বসাক (শবনম) ও চলচ্চিত্র সম্পাদক ফজলে হকের নাম যুক্ত হয়েছে। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছে খন্দকার সুমন পরিচালিত ‘সাঁতাও’। শ্রেষ্ঠ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মরিয়ম’, শ্রেষ্ঠ প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ‘লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল’। শ্রেষ্ঠ…
বলা হয়, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রগুলো খুব একটা ব্যবসা করে না। তবে এবারের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে, তা অনেকেই প্রত্যাশা করেননি। সাম্প্রতিক অতীতে এমন চিত্র দেখা যায়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এবারের ঈদে মুক্তি পাওয়া আটটি চলচ্চিত্র নিয়ে এমনই মন্তব্য করছেন হলমালিকরা। ঈদে মুক্তি পেয়েছে ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’, ‘মালিক’, ‘পিনিক’, ‘অফিসার’, ‘তছনছ’ ও ‘মাসুদ রানা’। দেশের দুর্দশাগ্রস্ত এই সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে বর্তমানে সচল প্রেক্ষাগৃহের সংখ্যা প্রায় ১৫০টি। ঈদ উপলক্ষে অল্প কিছু হল সাময়িকভাবে চালু হওয়ায় মোট প্রদর্শনযোগ্য হলের সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৭০টি। এর মধ্যে দর্শক টানতে সক্ষম হয়েছে মূলত ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘মালিক’ ও ‘বনলতা সেন’। শাকিব খান,…
জীবনানন্দ দাশের ‘বনলতা সেন’ কবিতা অবলম্বনে মাসুদ হাসান উজ্জ্বল একই নামে সিনেমা বানিয়েছেন। ঈদে মুক্তি পাওয়া সিনেমাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিবা বাশার। সিনেমাটির প্রচারণায় সম্প্রতি তিনি এসেছিলেন টাইমস অব বাংলাদেশের অফিসে। কথা বলেছেন পেইজ থ্রির সঙ্গে। ‘বনলতা সেন’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হলেন কীভাবে? খুব অর্গানিকভাবে। উজ্জ্বল ভাইয়ের সঙ্গে আগে কখনো কাজ হয়নি। উনার কাস্টিং ডিরেক্টর আমাকে ফোন দেন। আমি আগে থেকেই উনার কাজের ভক্ত ছিলাম, বিশেষ করে ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’ আমার খুব প্রিয়। তাই যখন শুনলাম উনি নতুন সিনেমা করছেন, তখনই আগ্রহী হয়েছিলাম। তারপর স্ক্রিপ্ট পড়লাম। জীবনানন্দ দাশ আমার খুব প্রিয় কবি। চরিত্রটা ভালো লাগল, অডিশন দিলাম, সেখান থেকেই যুক্ত…
মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত ‘হাওয়া’-তে নাজিফা তুষি ছিলেন বেদেকন্যা গুলতি। চরিত্রটিতে অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন। এবারের ঈদে একই পরিচালকের ‘রইদ’-এ দেখা যাবে তাকে। সিনেমাটির পোস্টার, টিজার, ট্রেলারে তাকে দেখা গেছে নাম ও গ্ল্যামারবিহীন এক চরিত্রে। এ চরিত্রের জন্য তার যে সংগ্রাম, ত্যাগ— তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। কেবল লুকে বদল আনাই নয়, চরিত্রের মনস্তত্ত্ব ধারণ করতে দীর্ঘ সময় প্রসাধনহীন জীবন কাটিয়েছেন তিনি। উষ্কখুষ্ক চুল, হলদেটে দাঁত, রোদে পোড়া ত্বক— এমন লুক আনার জন্য ছয় মাস কোনো ধরনের শ্যাম্পু, সাবান বা কন্ডিশনার ব্যবহার করেননি। তিনি চেয়েছিলেন তার ত্বকের রোমকূপগুলো উন্মুক্ত হোক এবং মুখে মেছতার মতো ছোপ তৈরি হোক। সিনেমায় মেকআপ ব্যবহার করে কালো…
‘বিদ্রোহী কবি’ কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিশীলতার বিস্তার শুধু কবিতা বা গানের ভুবনে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলা চলচ্চিত্রের শুরুর যুগেই তিনি যুক্ত হয়েছিলেন গল্প, চিত্রনাট্য, অভিনয়, সংগীত পরিচালনা ও চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে। জীবদ্দশায় তিনি যেমন পর্দার মানুষ ছিলেন, মৃত্যুর পরও তেমনি তার গান, গল্প ও ভাবনা বেঁচে আছে বাংলা সিনেমা, নাটক, প্রামাণ্যচিত্র, এমনকি বলিউডের পর্দাতেও। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলো-আঁধারির জগতে নতুনভাবে ফিরে আসছেন নজরুল—কখনো সুর হয়ে, কখনো চরিত্র হয়ে, কখনো প্রতিবাদের ভাষা হয়ে। চলচ্চিত্রকার নজরুল বাংলা সবাক চলচ্চিত্রের একদম শুরুর দিকেই নজরুলের প্রবেশ। ১৯৩০-এর দশকে কলকাতার চিত্রজগতে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন প্রায় বিশটি চলচ্চিত্রের সঙ্গে। ১৯৩৪ সালে সত্যেন্দ্রনাথ দের সঙ্গে…

