আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৭

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৭
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

ঢাকা মহানগরীতে চুরি, ছিনতাই, দস্যুতা ও ডাকাতি রোধকল্পে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক নিবারণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে অপরাধী ও তাদের অপরাধ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলমান রয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. তৈয়ব আলী সর্দার, পাভেল সর্দার (চাকরিচ্যুত পেটি অফিসার, বাংলাদেশ নৌবাহিনী), সাইফুর রহমান, রাব্বি আলম (চাকরিচ্যুত সৈনিক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী), ইমরান হোসেন ভুঁইয়া, নুরুল ইসলাম এবং মো. ইসমাইল।

এর আগে শনিবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, ৬/৭ জনের সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বেড়িবাঁধ সংলগ্ন দূরানী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ফাঁকা জায়গায় ডাকাতির পরিকল্পনা করার জন্য সমবেত হয়েছে। তারা নিজেদের বিভিন্ন বাহিনীর নাম-পদবি ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, ওয়াকিটকি ও দেশি-বিদেশি অস্ত্র ব্যবহার করে দস্যুতা ও ডাকাতি করে বেড়ায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে এসি লালবাগের নেতৃত্বে উক্ত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মো. তৈয়ব আলী সর্দার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন ও একটি পকেট রাউটার উদ্ধার করা হয়। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া তার অপরাপর সহযোগীরা উত্তরখান, দক্ষিণখান ও এয়ারপোর্ট এলাকায় বসবাস করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৪ আগস্ট উত্তরখান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পাভেল সর্দার (৩৩) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে একটি কিরিচ, দুটি মোবাইল ফোন, র‍্যাব লোগোযুক্ত একটি আইডি কার্ড হোল্ডার, দুটি সেনাবাহিনীর ফিল্ড ক্যাপ ও একটি কালো লেজার লাইট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত তৈয়ব ও পাভেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শুক্রবার বিমানবন্দর এলাকা থেকে সাইফুর রহমান (৪৫), রাব্বি আলম (২৪), ইমরান হোসেন ভুঁইয়া (২৮), নুরুল ইসলাম (৩৩) এবং মো. ইসমাইলকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত ও দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দর থানাধীন সেন্টার পয়েন্ট শপিংমলের পার্কিং স্থান থেকে একটি কালো ওয়াকিটকি সেট, বাংলাদেশ পুলিশের লোগোযুক্ত একটি হ্যান্ডকাফ, গাড়ির দুটি ভুয়া নম্বর প্লেট, তিনটি র‍্যাব লেখা ভেস্ট, একটি ডিবি লেখা ভেস্ট, দুটি রিফ্লেক্টিং ভেস্ট, পাঁচটি কালো রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, পাঁচটি হলুদ রঙের রিফ্লেক্টিং স্টিকার, একটি কালো রঙের পিস্তল কভার, একটি খেলনা পিস্তল এবং তিনটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।

আরও পড়ুন

আটককৃত ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা সংঘবদ্ধ হয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি ও দস্যুতা করে আসছিল। পরবর্তীতে আটককৃত মো. ইমরান হোসেন ভুঁইয়ার দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানাধীন রূপসী গ্রামে তার বোনের বাসা থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এ ছাড়া তৈয়ব আলীর দেওয়া তথ্যমতে একই দিন সকালে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ও তৈয়বের মালিকানাধীন একটি প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাসাবাদে জানা যায়, উদ্ধারকৃত পিস্তলটি তৈয়ব আলী সর্দার ৫/৬ দিন পূর্বে ইমরানের নিকট হস্তান্তর করেছিলেন। তৈয়ব আলী সর্দারের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ৪৫টি মামলা এবং পাঁচটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।

গত মে মাসে যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি ডাকাতির ঘটনায় আটককৃতদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় তৈয়ব ও পাভেলের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এ ছাড়া গত ১৩ জুলাই খিলক্ষেত থানাধীন কুরিল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারে ডাকাতির ঘটনায়ও তৈয়বের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই ডাকাত দলের সদস্যরা সম্প্রতি একাধিক ডাকাতির কাজে সম্পৃক্ত ছিল মর্মে স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা এবং রূপগঞ্জ থানায় একটি পৃথক অস্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad