রাশিয়ায় এই পর্যন্ত হওয়া সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। স্থানীয় সময় রোববার রাতভর চালানো এ হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলায় ৮২২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এটিকে যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অন্যতম বড় আকাশ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, রাজধানী অভিমুখে প্রায় ৬০০ ড্রোন শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ মস্কো অঞ্চলের আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, একটি ড্রোন একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে আঘাত হানলে ৮৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন। পোদলস্ক শহরে অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের একটি গুদামেও আগুন ধরে যায়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রোস্তভ অঞ্চলের তিনটি শহরেও ড্রোন হামলা হয়েছে। গভর্নর ইউরি স্লিউসার জানান, সেখানে ১৫০টির বেশি ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেলস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি বনাঞ্চলে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।
চলতি বছর রাশিয়ার বিরুদ্ধে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। সামরিক শিল্প, জ্বালানি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের বিভিন্ন গুদামেও হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনেও রুশ হামলা
অন্যদিকে ইউক্রেনেও একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ক্রিভি রিহ শহরে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত ও ১৪ জন আহত হয়েছেন। সুমি শহরেও একজন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে একটি বাড়িতে রুশ হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইভান ফেদোরভ।
রাজধানী কিয়েভেও একাধিক হামলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ছয়জন আহত হন। জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রুশ বাহিনী যেসব এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালাতে পারে, সেখানেই তারা বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ক্রিভি রিহের একটি ধাতব কারখানা এবং কিয়েভের কয়েকটি সামরিক শিল্প স্থাপনা। এর মধ্যে ইউক্রেনের ফ্লামিঙ্গো ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনকারী একটি স্থাপনাও রয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।


