মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে কৌশলগত নৌপথগুলোতে জাহাজ চলাচল চরম ব্যাহত হওয়ায় এবার বিকল্প হিসেবে উত্তর মহাসাগর বা আর্কটিক রুট ব্যবহার করতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া।
বৃহস্পতিবার দেশটির মহাসাগরবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সুমেরু পথ দিয়ে তারা প্রথম পরীক্ষামূলক বাণিজ্যিক জাহাজ চালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
নর্দার্ন সি রুট (এনএসআর) নামের এই উত্তর সামুদ্রিক পথটি বছরের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী থাকে, যখন জাহাজ চলাচলের জন্য বরফভাঙা বিশেষ নৌযানের (আইসব্রেকার) প্রয়োজন পড়ে না।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে দক্ষিণ কোরিয়ার মহাসাগর মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিবেশ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী ২২ আগস্ট সন্ধ্যায় তাদের পণ্যবাহী জাহাজটি যাত্রা শুরু করবে। তবে টাইফুন বা আবহাওয়াগত জটিলতা থাকলে সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।
এই পরীক্ষামূলক যাত্রায় বরফ গলে তৈরি হওয়া বিশেষ আর্কটিক চ্যানেল ধরে জাহাজটি ইউরোপের উদ্দেশে রওনা হবে। এর মাধ্যমে সুমেরুর এই রুটটি বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিকভাবে কতটা লাভজনক, তা বিশদ যাচাই করা হবে।
সম্প্রতি লোহিত সাগর ও মধ্যপ্রাচ্য সংলগ্ন প্রচলিত রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানিগুলো নতুন পথ খুঁজছে। চলতি মাসেই চীনা কনটেইনার জাহাজ ‘দুবাই টাওয়ার’ নিংবো বন্দর থেকে ছেড়ে বেরিং প্রণালি ও রাশিয়ার আর্কটিক উপকূল ধরে পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার মহাসাগরবিষয়ক উপমন্ত্রী নাম জে-হন মনে করেন, ভবিষ্যতে আর্কটিক পথটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রুটগুলোর টেকসই বিকল্প হতে পারে। অবশ্য পরিবেশবাদী সংস্থাগুলো জোর সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এই স্পর্শকাতর বাণিজ্যিক রুটে নিয়মিত জাহাজ চলাচল বাড়লে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও ভয়াবহ রূপ নেবে।


