চীনের অন্যতম বৃহৎ আবাসন ব্যবসায়ী ও এভারগ্র্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা হুই কা ইয়ানকে আর্থিক প্রতারণাসহ একাধিক অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির আদালত। একই সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং এভারগ্র্যান্ড গ্রুপকে শত কোটি ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণ চীনের শেনঝেন ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন। গত এপ্রিলে ৬৭ বছর বয়সী এই ধনকুবের কোম্পানির অর্থ অপব্যবহার, তহবিল সংগ্রহে প্রতারণা, অবৈধ আমানত নেওয়া, বেআইনি ঋণ দেওয়া, প্রতারণামূলক সিকিউরিটিজ ইস্যু ও ঘুষসহ অন্তত আটটি গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছিলেন।
আদালতের রায়ে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে হুই কা ইয়ান ধারাবাহিক ও বৃহৎ পরিসরে আর্থিক জালিয়াতির মাধ্যমে এভারগ্র্যান্ডের মূলধনের পরিমাণ কৃত্রিমভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখান এবং বিপুল পরিমাণ ঋণের তথ্য গোপন করেন। তার এসব কর্মকাণ্ড দেশের সমাজতান্ত্রিক বাজার অর্থনীতির শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় আঘাত এনেছে।
এ মামলায় হুইয়ের মূল প্রতিষ্ঠান এভারগ্র্যান্ড গ্রুপকে ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউয়ান এবং এর আবাসন শাখাকে ৭ বিলিয়ন ইউয়ান জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৫০ জনেরও বেশি কর্মকর্তাকে ২০ মাস থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একসময় এশিয়ার শীর্ষ ধনী হিসেবে পরিচিত হুই কা ইয়ানের ২০১৭ সালে সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। তবে ২০২০ সালে চীন সরকার আবাসন খাতে ঋণ নেওয়াতে কঠোর নীতিমালা আরোপ করলে ঋণনির্ভর এভারগ্র্যান্ড সংকটে পড়ে। প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার ঋণের দায়ে জর্জরিত এভারগ্র্যান্ডের এই পতন চীনের বর্তমান আবাসন খাতের গভীর সংকটের প্রধান প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।
হেনান প্রদেশের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া হুই কা ইয়ান ১৯৯৬ সালে এভারগ্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করেন। একসময় তিনি চীনের ধনকুবেরদের প্রতীক ছিলেন। সেই ব্যক্তিই এখন দেশের অন্যতম বড় করপোরেট কেলেঙ্কারির দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন।


