বাংলাদেশ ব্যাংকের বিধিমালায় স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত কৃষিবিদ গ্রুপকে বিশেষ নীতিগত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা, অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তা কর্মসূচি ও এর বাস্তব প্রয়োগও বিতর্কের মুখে পড়েছে।
বিষয়টি দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির একটি পরিচিত প্রবণতাকেও সামনে এনেছে। ক্ষমতাধর ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো সরকার পরিবর্তন হলেও নিজেদের অবস্থান নতুন করে সাজিয়ে শেষ পর্যন্ত অনুকূল সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের (বিআরপিডি) গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা একটি সার্কুলার অনুযায়ী, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরা কোনো ধরনের নীতিগত সহায়তার যোগ্য নয়। কিন্তু টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে পাওয়া অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণদাতা ব্যাংকগুলোকে কৃষিবিদ গ্রুপের নেওয়া প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণ ১০ বছরের মেয়াদে পুনঃতফসিল করার নির্দেশ দিয়েছে।
এ নির্দেশে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট পরিশোধের শর্তে গ্রুপটির ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপির শ্রেণিভুক্ত প্রত্যাহারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিআরপিডি’র ২০২৫ সালের ৭ নাম্বার প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপিরা কোনো ধরনের নীতি সহায়তার যোগ্য নয়। অথচ নথি বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃষিবিদ গ্রুপের প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঋণ ১০ বছরের জন্য পুনঃতফসিল করতে নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ড।
এই আদেশে নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট গ্রহণের পর কৃষিবিদ গ্রুপের ইচ্ছাকৃত খেলাপির তকমা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকগুলোকে। এই সংক্রান্ত চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়ছে, গভর্নরের অনুমোদন সুত্রে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে কৃষিবিদ গ্রুপের বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নিজস্ব মূল্যায়নে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছিল। সাবেক নির্বাহী পরিচালক মো. মেজবাউল হকের নেতৃত্বাধীন নীতি সহায়তা কমিটি কৃষিবিদ গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলের আবেদন নাকচ করেছিল। বিআরপিডি প্রজ্ঞাপনের আওতায় অযোগ্য বিবেচিত হওয়ায় তখন এই সিদ্ধান্ত এসেছিল।
তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গ্রুপটি আপিল করে। ততদিনে নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন নীতি সহায়তা কমিটি দায়িত্বে আসে। এরা আগের কমিটির সিদ্ধান্ত উল্টে কৃষিবিদ গ্রুপকে নীতি সহায়তা অনুমোদন করে। টাইমস অব বাংলাদেশের হাতে আসা নথি পর্যালোচনা করে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রুপটির নীতি সহায়তার বিষয়টি ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিটির ৩৯তম বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। গভর্নরের সম্মতির পর ১৪ অক্টোবর বিআরপিডি সব ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়ে বিশেষ নীতি সহায়তার আওতায় ঋণ পুনঃতফসিল কার্যকর করার নির্দেশ দেয়।

এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মো. সিরাজুল ইসলাম টাইমসের কাছে স্বীকার করেন, কৃষিবিদ গ্রুপের ক্ষেত্রে বিআরপিডির প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা হয়নি। তিনি বলেন, নির্ধারিত ডাউন পেমেন্ট পাওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে গ্রুপটির ইচ্ছাকৃত খেলাপির শ্রেণিকরণ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিরাজুল ইসলামের এই বক্তব্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত অবস্থানের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকি জানান, কোনো ঋণগ্রহীতা ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত থাকলে তাকে নীতি সহায়তা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেবল ইচ্ছাকৃত খেলাপি প্রত্যাহারের পরই এ ধরনের সুবিধা দেওয়া যায়।
তবে এই প্রতিবেদকের হাতে আসা ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষিবিদ গ্রুপ ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবেই তালিকাভুক্ত ছিল।
সংজ্ঞা অনুযায়ী, জালিয়াতি বা প্রতারণার মাধ্যমে যারা ঋণ নিয়েছেন, অর্থ স্থানান্তর করেছেন এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধ করছেন না তারাই ইচ্ছাকৃত খেলাপির তালিকায় পড়েন।
এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে নীতি সহায়তা দেওয়ায় নিয়ন্ত্রক ছাড়ের মাত্রা স্পষ্ট হয়েছে। নথি অনুযায়ী, কৃষিবিদ গ্রুপের জন্য ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে–এর মধ্যে ১ শতাংশ নগদ এবং বাকি ১ শতাংশ ছয় মাস পর পরিশোধযোগ্য। এরপর দুই বছরের পূর্ণ কিস্তি-মুক্ত সময় দেওয়া হয়েছে এবং পুরো বকেয়া ১০ বছরে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নথিতে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আটটি ব্যাংক ও দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কৃষিবিদ গ্রুপ ঋণখেলাপি অবস্থায় রয়েছে। ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে–আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আইআইডিএফসি এবং আইপিডিসি ফাইন্যান্স।
নথি বলছে, কৃষিবিদ গ্রুপ এখনো ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে ইউনিয়ন ব্যাংকে।
এর আগে প্রথম দফায় ২০২১ ও ২০২২ সালে ঋণগুলো পুনঃতফসিল করেছিল গ্রুপটি। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয় দফায় ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পেয়েছে কৃষিবিদ গ্রুপ। তবে প্রথম দফায় পুনঃতফসিরে পরও নিয়মিত হয়নি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটির অন্তর্ভূক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে নথি ও সূত্রের অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদন দিয়েই ক্ষান্ত হননি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর পর্ষদ যাতে ঋণগুলো পুনঃতফসিল করে দেয় সেজন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন। কারণ, ইচ্ছাকৃত খেলাপি থাকায় কয়েকটি ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মানতে রাজি হচ্ছে না।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে কৃষিবিদ গ্রুপকে বিশেষ সুবিধা দিতে একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর ওপর চাপ প্রয়োগের। ইবনে সিনা ট্রাস্টের বোর্ড সদস্য আইয়ুব মিয়াকে সম্প্রতি ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
ইউনিয়ন ব্যাংকে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসক দলের একাধিক সদস্য টাইমসকে জানিয়েছেন, স্পষ্টভাবে ইচ্ছাকৃত খেলাপি হিসেবে শ্রেণিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও কৃষিবিদ গ্রুপকে এই শ্রেণি থেকে বাদ দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করে দিতে চাপ দিচ্ছেন সম্মিলিত ব্যাংকের চেয়ারম্যান। এক প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, চাপ দিতে আইয়ুব মিয়া বৃহস্পতিবার অন্তত পাঁচবার ফোন করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক মোহাম্মদ আবুল হাসেমকে ।
এসব অভিযোগের জবাবে মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া টাইমসকে বলেছেন, নীতি ও বিধির বাইরে কাউকে কোনো বিশেষ সহায়তা বা সুবিধা দেওয়া হবে না।
গত বছরের ৫ নভেম্বর ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এগুলোকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ব্যাংকে একজন প্রশাসকের সঙ্গে আরও চারজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যারা সবাই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা।
নীতি সহায়তা নিয়ে বিতর্ক তীব্র
কৃষিবিদ গ্রুপের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে উসকে দিয়েছে। বিগত বছরগুলোতে রাজনৈতিক বৈষম্য, মহামারি, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ, বৈশ্বিক মন্দা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতির কথা উল্লেখ করা ব্যবসায়ীদের সহায়তায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা প্রদানের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। পরবর্তীতে এই কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্যসচিব পদে পরিবর্তন আসে।
এই কমিটির বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো সিরাজুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব বিআরপিডি’র পরিচালক মো. বায়েজীদ সরকার। অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মামুন রশীদ, হক’স বে–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল হক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব দেলোয়ার হোসেন।
নীতি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় কমিটির কাছে ১ হাজার ৬শ’র বেশি আবেদন জমা পড়ে যেগুলোর মধ্যে প্রায় ৫০০ প্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তা পায়। শুরু থেকেই এই কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক ছিল। খাতসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ‘বিশেষ সুবিধা’ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা নীতি সহায়তা দিয়েছেন। সমালোচকদের মতে, এতে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অনিয়মের পথ খুলে দিচ্ছে।
ব্যাংকগুলোও জোরালো আপত্তি তোলে। তাদের যুক্তি, ঋণগ্রহীতাদের মূল্যায়নের দায়িত্ব ব্যাংকগুলোরই এবং এমন সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রকের হাতে থাকা উচিত নয়। একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গভর্নরকে জানান, এই নীতির ফলে ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনার ওপর চাপ বেড়েছে এবং ভালো গ্রাহকরাও একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা চাইছেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে নীতি সহায়তা দেওয়ার ক্ষমতা ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের কাছে হস্তান্তর করে।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কখনোই কোনো অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত নয়। ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা কেবল তদারকি ও নজরদারিতে সীমিত থাকা উচিত। কোন অনুমোদন প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঢুকলেই সেখানেই সমস্যার শুরু হয়,’ বলেন এই প্রবীণ ব্যাংকার।
নথি অনুযায়ী, কৃষিবিদ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আফজাল ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–এর পর রাজনৈতিক অবস্থান বদলান। তিনি আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী থেকে জামায়াতে ইসলামী–ঘনিষ্ঠ হন এবং ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–২ আসনে জামায়াতের মনোনয়ন চান।
ইচ্ছাকৃত খেলাপি থাকার কারণে তিনি মনোনয়ন না পেলেও, আসন্ন রিহ্যাব নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। যে কারণে তিনি খেলাপির তকমা মুছে ফেলতে তৎপর।
কৃষিবিদ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলী আফজাল বলেন, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যবসা করতে গিয়ে আমি বৈষম্যের শিকার হয়েছি। তখন আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য ইচ্ছাকৃত খেলাপি করা হয়েছিল।
তিনি টাইমসকে জানান, ইউনিয়ন ব্যাংক যখন এস আলম গ্রুপ–এর নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন আগাম কোনো নোটিশ ছাড়াই তাকে ইচ্ছাকৃত খেলাপি করা হয়। কিন্তু এর আগে গ্রাহককে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ‘এমনকি ইচ্ছাকৃত খেলাপি করার পরেও আমাদের জানানো হয়নি। গত বছর ঋণ পুনঃতফসিল করতে গিয়ে বিষয়টি আমরা জানতে পারি,’ বলেন আলী আফজাল। তিনি জানান, বিগত সরকারের আমলে ব্যবসা পরিচালনায় বাধার মুখে পড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নীতি সহায়তা দিয়েছে।


