মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করা দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযোগের পরপর অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করে আইনের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
তিনি জানান, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পথে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা ভেবে স্বামী-স্ত্রী মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন।
এ সময় হাসপাতালের প্রধান ফটকে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ তদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের ১০ তলা ভবনের নিচতলায় স্বামীকে রেখে ওই নারীকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ওই দুই আনসার সদস্য নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে স্বামীকে বিষয়টি জানান। এরপর তারা মানিকগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যকে থানায় ডেকে আনে। ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করলে তাদের আটক করা হয়। বর্তমানে ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম চলছে বলে জানান পুলিশ সুপার।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানিকগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান বলেন, ‘অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শামীমা আক্তারকে প্রধান করে দুই সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, ‘আনসার সদস্যদের ডেকে পুরো বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে চিকিৎসাধীন।’


