বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর দলটির খেলোয়াড়দের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায় আর্জেন্টাইনরা। এই ঘটনাসহ পুরো টুর্নামেন্টের একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ফিফা।
গত সপ্তাহে নিউজার্সির স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে ফাইনাল হারের পর স্প্যানিশদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা। মাঠের ওই ঘটনা খতিয়ে দেখতে প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়ে সপ্তাহব্যাপী তদন্ত চালিয়েছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী অভিযুক্তদের নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এরপর কমিটি যথাসময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।’
ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের বদলি খেলোয়াড়েরা উদ্যাপনের জন্য মাঠে ছোটেন। তখন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে মুখে আঘাত করেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়াকেও তিনি আঘাত করেন।
প্রসিকিউটরের সুপারিশে শৃঙ্খলাবিধির ১৪ নম্বর ধারায় অভিযুক্তদের তদন্ত করবে ফিফা। এর মধ্যে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মলিনার বিরুদ্ধে দুটি, পারেদেসের বিরুদ্ধে তিনটি ও সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ রয়েছে।
খেলোয়াড়সুলভ আচরণবিরোধী অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন মলিনা। একই অভিযোগ রয়েছে আর্জেন্টিনার থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের গাভির বিরুদ্ধেও।
ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, এমন অপরাধে অন্তত এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জুটতে পারে। সংঘর্ষের অভিযোগ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান রয়েছে।
একাধিক ম্যাচে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে ফিফা। অভিযোগের মধ্যে আছে খেলাধুলার চেতনাবিরোধী কার্যক্রম (১৩ নম্বর ধারা), দলের অসদাচরণ (১৪ নম্বর ধারা), বৈষম্য ও বর্ণবাদী আচরণ (১৫ নম্বর ধারা) ও ম্যাচে শৃঙ্খলা রক্ষার নিয়ম ভঙ্গ (১৭ নম্বর ধারা)।
আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, দেরিতে ম্যাচ শুরু, অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন ও মাঠে দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে ব্যানার প্রদর্শন করেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা। স্প্যানিশ ভাষায় সেখানে লেখা ছিল, ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’
ফিফা জানায়, খেলাধুলার আসরকে বাইরের প্রচারণায় ব্যবহার করলে শৃঙ্খলাবিধির লঙ্ঘন হয়। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগেও এমন ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।


