এশিয়ান গেমস নারী ফুটবলের গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এটি বাংলাদেশ নারী ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার।
সোমবার ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকে বাংলাদেশের ওপর চড়াও ছিল উত্তর কোরিয়া। পঞ্চম মিনিটে জন রিয়ং জংয়ের গোলে এগিয়ে যায় দলটি। পাঁচ মিনিট পর জন রিয়ং জংই করেন দ্বিতীয় গোল।
১২ মিনিটে হোয়াং ইউ ইয়ং, ১৮ ও ৩৫ মিনিটে চ্যা আন ইয়ং এবং ৪০ ও ৪৩ মিনিটে কিম কিয়ং ইয়ং গোল করলে প্রথমার্ধে উত্তর কোরিয়ার গোলসংখ্যা সাতে পৌঁছে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের মিছিল কমলেও ব্যবধান বড়ই ছিল। ৫১ মিনিটে রি সং, ৬০ মিনিটে জং কুম ও ৯০ মিনিটে জিন হং গোল করেন। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ১০-০।
উত্তর কোরিয়ার লাগাতার আক্রমণের বিপরীতে বাংলাদেশ তাদের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি।
অভিজ্ঞদের বাইরে রেখে কিছুটা তারুণ্যনির্ভর একাদশ সাজিয়েছিলেন কোচ পিটার বাটলার। ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার ও শামসুন্নাহার ছিলেন বেঞ্চে। জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হয় ডিফেন্ডার অর্পিতা বিশ্বাসের। গোলপোস্টের দায়িত্ব পান মিলি আক্তার।
তবে ম্যাচের ২৩ মিনিটেই অর্পিতাকে তুলে শিউলি আজিমকে মাঠে নামাতে হয়। এরপর ৬৯ মিনিটে আনিকাকে তুলে ডিফেন্ডার শামসুন্নাহারকে নামান বাটলার। গোলের পর গোল হজম করলেও ম্যাচে বাংলাদেশের পরিবর্তন ছিল এ দুটি।
অভিজ্ঞদের নিয়ে একাদশ সাজালে ফল অন্য রকম হতো কি না, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। দুই দলের শক্তির পার্থক্য আকাশ-পাতাল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে উত্তর কোরিয়া ১১ নম্বরে, বাংলাদেশ ১০৭–ব্যবধান ৯৬ ধাপ। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও সাফল্যেও দুই দলের মধ্যে বিশাল ফারাক।
বাংলাদেশ নারী দলের সবচেয়ে বড় সাফল্য দুটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। এশিয়ান গেমসে এর আগে অংশগ্রহণ মাত্র একবার, ২০২২ আসরে। সেবার গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ ড্র করে বিদায় নিতে হয়েছিল।
পাঁচবার বিশ্বকাপে খেলা উত্তর কোরিয়া তিনবার এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন। অলিম্পিকে খেলেছে দুইবার। এশিয়ান গেমসে ছয়বার সোনার লড়াইয়ে নেমে তিনবার জয় আছে।
তারপরও আজকের হার বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা। গত মার্চে এএফসি এশিয়ান কাপে এই উত্তর কোরিয়ার কাছে বাংলাদেশ হেরেছিল ৫-০ গোলে। এবার ব্যবধান দ্বিগুণ। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া।


