এশিয়া কাপ থেকে বিদায়ের পর বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দল নিয়ে পর্যালোচনায় বসবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এশিয়ান গেমসের পর কোচিং স্টাফ ও অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে বোর্ড।
বিসিবির একটি সূত্র টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছে, কোচিং স্টাফের পাশাপাশি অধিনায়কত্বও পর্যালোচনা করা হবে। বর্তমানে নারী দলের পুরো কোচিং স্টাফ দেশীয়। তবে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কয়েকজন প্রার্থীকে নিয়ে বিদেশি কোচ নিয়োগের বিষয়টিও ভাবছে বিসিবি।
এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাটিং ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শেষ ১০ ইনিংসে তিনি করেছেন ১৯২ রান। ইনিংসগুলোতে তার রান ৯, ০, ২৭, ৩৬, ৩২, ৩২, ১০, ৪, ২৩ ও ১৯।
বিসিবির নারী বিভাগের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবু শনিবার বলেন, এশিয়ান গেমসের আগে নেতৃত্ব বা কোচিং নিয়ে কোনো পরিবর্তন করা হবে না। এশিয়ান গেমসের পর দলের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাবু বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এশিয়া কাপ শেষ হয়েছে। এরপর দল সরাসরি এশিয়ান গেমসে যাবে। দল ও অধিনায়ক অনেক আগেই নির্বাচন করা হয়েছে। তাই এখন পরিবর্তনের সুযোগ নেই। আমরা আশা করি, তারা এশিয়ান গেমসে ভালো করবে এবং আগের ভুলগুলো শুধরে নেবে।’
এশিয়ান গেমসের দল চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ায় টুর্নামেন্টের আগে নেতৃত্ব বা কোচিং কাঠামোয় পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
বাবু বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে তারা কেমন করে, সেটি দেখার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব। সামনে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি সিরিজ রয়েছে।’
তবে এশিয়ান গেমসে ভালো পারফরম্যান্স করলেও জ্যোতির অধিনায়কত্ব নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। দলের সামগ্রিক দুর্বলতাও এর একটি কারণ বলে উল্লেখ করেন বাবু।
তিনি বলেন, ‘দলে অনেক ঘাটতি রয়েছে। আমরা বড় দলগুলোর বিপক্ষে জিততে পারিনি। বিশ্বকাপেও ভালো খেলেছি। কিন্তু ছোট ভুলের কারণে হেরেছি। দলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে আমরা কাজ করছি।’
ব্যাটিংও দলের বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এশিয়া কাপে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ১২৯, ১১৪ ও ১০৩ রান করে। ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে রান তাড়ায় দলটির সংগ্রহ ছিল ১০৯ রান।
বর্তমানে নারী দলের ব্যাটিং কোচ নাসিরউদ্দিন শাজীব ফারুক। এশিয়ান গেমসের পর তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
প্রধান কোচ সরওয়ার ইমরানের দায়িত্বও পর্যালোচনায় রয়েছে। বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, তার জায়গায় ডেভিড হেম্পকে বিবেচনা করছে বোর্ড।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের আসন্ন সিরিজের আগে হেম্প দায়িত্ব নিতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে। তবে এখনো তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
প্রাথমিক সমঝোতা হলে দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পেতে পারেন তিনি।
হেম্প এর আগে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল, পুরুষ জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ ও নারী দলের সঙ্গে কাজ করেছেন। এবার প্রধান কোচ হিসেবে ফিরতে পারেন তিনি।
নারী দলের ম্যানেজার এস এম গোলাম ফাইয়াজের ভূমিকাও পর্যালোচনায় রয়েছে। কয়েকজন খেলোয়াড় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন।
এর আগে ফাইয়াজের বিরুদ্ধে খেলোয়াড়দের হয়রানি ও দলের মধ্যে বিভাজন তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগের পর বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা তিন কর্মকর্তার একজন ছিলেন তিনি। পরে তাকে পুনর্বহাল করা হয়।
সম্প্রতি উদীয়মান ক্রিকেটার ইশমা তানজিম ফাইয়াজের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করেন। কথিত আত্মহত্যার চেষ্টার পর ইমার্জিং নারী দলের ক্যাম্পে তাকে বিবেচনা না করায় তিনি এ অভিযোগ তোলেন।
এশিয়া কাপের সময় দলের সঙ্গে ছিলেন ফাইয়াজ। এশিয়ান গেমসেও দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি।
অভিযোগের পরও ফাইয়াজ কেন দলের সঙ্গে থাকছেন, জানতে চাইলে বাবু বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বোর্ড ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, ‘কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা আমাদের প্রধান বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে কঠোর ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে ফাইয়াজের বিরুদ্ধে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নারী বিভাগে জমা পড়েনি বলে জানান বাবু।
তিনি বলেন, ‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ পাইনি। এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার কাছে এলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব।’


