রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো মঙ্গলবার সিলেট সফরে যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তার সফরকে কেন্দ্র করে সিলেট নগরীতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) নগর ভবন প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি প্রথমে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। পরে বিকাল ৩টায় সিসিক আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সফরকে কেন্দ্র করে শনিবার সমন্বয় সভা করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)। এতে সার্বিক নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতি সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় এসএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন এসএমপি কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, যানবাহন চলাচল ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনসাধারণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা করা হয়। সফল ও নির্বিঘ্ন সফর নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এসএমপি কমিশনার।
সভায় বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতির সফরসূচি এবং নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎ শেষে সিসিক প্রশাসক জানান, রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে নাগরিক সংবর্ধনার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। তার সফরকে ঘিরে নগরবাসীর মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার প্রতিফলন ঘটবে।


