বরগুনায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার অভিযোগে বাদীকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে মামলায় হয়রানির শিকার ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার বরগুনার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল মাসুদের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে মামলার অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করা হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর মো. মোশারফ হোসেন কানাডায় চাকরি দেওয়ার নামে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ সালনা এলাকার এ.কে.এম. সহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার শুনানির একপর্যায়ে আদালত বাদীকে অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন।
তবে, নির্ধারিত তারিখে বাদী বা তার আইনজীবী আদালতে উপস্থিত হননি এবং অভিযোগের পক্ষে কোনো ব্যাখ্যাও দাখিল করেননি। পরবর্তীতে আদালত মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে উল্লেখ করেন।
এরপর ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০(২) ধারায় ভুক্তভোগী এ.কে.এম. সহিদুল ইসলামকে ৩০ দিনের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৫০(৫) ধারার ক্ষমতাবলে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অপরাধে বাদী মো. মোশারফ হোসেনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
আদালতের আদেশের পর থেকে দণ্ডপ্রাপ্ত বাদী মো. মোশারফ হোসেন পলাতক রয়েছেন।
বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর নুরুল আমিন বলেন, ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে দায়ের করা মামলাটি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা এবং আদালতের সময় নষ্ট করায় আদালত বাদীকে সাজা ও অর্থদণ্ড দিয়েছে।’


