সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি হিসেবে দিনটি ধর্মীয় শ্রদ্ধা ও উৎসবের মধ্য দিয়ে উদ্যাপন করছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন ও শিষ্টের রক্ষা, নিপীড়নের বিরুদ্ধে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং মানবজাতির কল্যাণে শ্রীকৃষ্ণের পৃথিবীতে আগমন ঘটে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কারাগারে দেবকী ও বসুদেবের ঘরে জন্ম হয় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের।
শাস্ত্র মতে, তখন পাশবিক শক্তি যখন চারদিকে ন্যায় ও সত্যকে দমন করছিল, তখনই শ্রীবিষ্ণু কৃষ্ণরূপে অবতার হয়ে অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে সত্য, সুন্দর ও মানবিকতার জয় ঘটান। তার জন্ম ও কর্মের মধ্য দিয়ে যুগে যুগে মানুষ পেয়েছে প্রেরণা ও দিকনির্দেশনা।
ধর্মীয় আচার ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি
দিনটি উপলক্ষে আজ সারা দেশে সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হচ্ছে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান।
এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করেছে নানা কর্মসূচি। এর মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, কৃষ্ণপূজা, গীতাপাঠ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ইত্যাদি।
ঢাকায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি আয়োজন করেছে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। সকালে পবিত্র মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় আলোচনা সভা, শ্রীকৃষ্ণ পূজা ও ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান।
দুপুরের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ভক্তদের অংশগ্রহণে বের হবে ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হয়ে শোভাযাত্রাটি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবে।
নিরাপত্তা ও সহযোগিতা
উৎসবকে ঘিরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বড় বড় মন্দির ও শোভাযাত্রার রুটে রয়েছে সিসিটিভি নজরদারি, ভ্রাম্যমাণ টহল ও মোবাইল কোর্ট।
ঢাকেশ্বরী মন্দির ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের নানা স্থানে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা।


