চলতি বছরের ১১ মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যুর পর এবার নড়েচড়ে বসেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
ডেঙ্গু রোগের কারণ এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে অ্যাডাল্টিসাইডিং এবং লার্ভিসাইডিংয়ে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে স্থানীয় নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করে ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকি টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। অ্যাডাল্টিসাইডিং হলো মূলত প্রাপ্তবয়স্ক মশা ধ্বংস করা এবং লার্ভিসাইডিং হলো মশার লার্ভা ধ্বংসের প্রক্রিয়া।
ডিএসসিসির গঠন করে দেওয়া এই টিম স্থানীয়ভাবে ওষুধ প্রয়োগের সময়সূচি প্রণয়ন ও প্রয়োগ যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা না নিশ্চিতে কাজ করবে। এছাড়া, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও নাগরিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংসেও কাজ করবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে, যেখানে মৃতের সংখ্যা ১৪৮।
মশা নিয়ন্ত্রণে সারাবছরই ফগার মেশিন ব্যবহার করে সিটি করপোরেশন। তবে নাগরিকদের অভিযোগ, সব অলি-গলিতে এই মেশিন পৌঁছে না, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ করেন, যেখানে প্রয়োজন বা যখন প্রয়োজন তাদের সেখানে পাওয়া যায় না। আবার মেশিনে সঠিক অনুপাতে সঠিক ওষুধ ব্যবহার করা হয় কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে।
এমন বাস্তবতায় বৃহস্পতিবার নগর ভবনে সভা করেছে ডিএসসিসি। সেখানেই সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে মশা নিধন কার্যক্রম শুরু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের চেয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যু উভয় হারই কম হলেও সম্প্রতি ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে জরুরি সভা হয়েছে। সভায় ডেঙ্গু আক্রান্তের হার বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক হটস্পট নির্ধারণ ও হটস্পটভিত্তিক চিরুনি অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়।

ডিএসসিসি প্রশাসক মো. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসক বলেন, ‘এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যেমন সিটি করপোরেশনের তেমন সম্মানিত নাগরিকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন কর্মীদের যথাযথ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতনতাও জোরদার করা প্রয়োজন।’
এসময় তিনি জানান, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে হঠাৎ ও দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট অভিযান চালাবে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঔষধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ডিএসসিসি কাজ করেছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি, টেলিভিশনে টিভিসি প্রচার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারসহ মসজিদ-মন্দিরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।’
শিগগিরই এলাকাভিত্তিক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধন অভিযান নতুন উদ্যমে শুরু হবেও জানান তিনি।
ডেঙ্গু সন্দেহ হলে ডিএসসিসির তিনটি হাসপাতাল অর্থাৎ ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতাল ও নাজিরা বাজার মাতৃসদনে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।


