খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর থানার পশ্চিম কাশিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র জামে মসজিদে ফজরের নামাজের সময় লোকমান হাকিম নামের এক ব্যক্তিকে গুলির ঘটনার পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থা।
চোরাই জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ, একটি আন্ডারগ্রাউন্ড গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক একজন কর্মকর্তার তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করাকে কেন্দ্র করে এই হামলা হয়েছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খুলনা মহানগরীর খালিশপুর, দৌলতপুর, খানজাহান আলী ও আড়ংঘাটা থানা এবং ফুলতলা এলাকায় চোরাই জ্বালানি তেলের অবৈধ ব্যবসা রয়েছে।
খালিশপুরের ভৈরব নদের তীরে অবস্থিত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো থেকে তেল লোড-আনলোডের সময় একটি চক্র তেল চুরি করে নির্দিষ্ট কিছু স্থানে বিক্রি করে। এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, যার সর্বশেষ নিয়ন্ত্রক ছিলেন আহত লোকমান হাকিম।
এর আগে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত মে মাসে অপর পক্ষের ওপর গুলির ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া, লোকমান হাকিম সম্প্রতি খুলনা থেকে বদলি হওয়া ডিবির সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈমুরের তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করতেন এবং সম্প্রতি গড়ে ওঠা একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গ্রুপের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা খুলনা থেকে বদলি হওয়ার পর লোকমান হাকিম মসজিদে বেশি সময় দেওয়া শুরু করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা মসজিদের ভেতরে ঢুকে তাকে গুলি করে।
গোয়েন্দা সূত্রের ধারণা, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বাহিনীর তথ্যদাতা এবং অবৈধ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ হাতবদল হওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এই পরিস্থিতির কারণে এ ধরনের হামলা আরও ঘটার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


