সাদ্দামের কাছে ঘুস দাবির অভিযোগ মিথ্যা, বললেন বাগেরহাটের জেলার

সাদ্দামের কাছে ঘুস দাবির অভিযোগ মিথ্যা, বললেন বাগেরহাটের জেলার
স্বজনদের নিয়ে স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করছেন সাদ্দাম। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জামিনে মুক্তি পাওয়া নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা জুয়েল হাসান সাদ্দামের কাছে ঘুস চাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন।

তিনি বলেছেন, ‘টাকার জন্য নয়, কারারক্ষীদের হুমকি, অন্য বন্দীদের মারধরসহ একাধিক বার কারা অপরাধের কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে অবস্থান বদলের জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান বাগেরহাটের জেলার।

এর আগে বুধবার রাতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বেরিয়ে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকায় স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে জেলারের বিরুদ্ধে ৫ লাখ টাকা ঘুস চাওয়ার অভিযোগ করেন জুয়েল হাসান সাদ্দাম।

তিনি বলেন, ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি বাগেরহাট থাকতে হয় তাহলে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। সেই টাকা দিতে না পারার কারণেই আমাকে যশোর কেন্দীয় কারাগারে পাঠানো হয়।’

সাদ্দামের এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিপুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন।

সাদ্দামের অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাদ্দামের আচারণের কারণেই তাকে যশোরে পাঠানো হয়। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। আর জেলার চাইলেই কাউকে অন্য জেলে স্থানন্তর করতে পারেনা। এ ধরনের ভিত্তিহীন কথার আমি প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন

বাগেরহাট কারাগারে থাকা অবস্থায় সাদ্দাম কারারক্ষী ও আশপাশের বন্দিদের ভয়ভীতি দেখাতেন বলেও দাবি করেন এই জেলার।

বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল গোপালগঞ্জ থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

৬ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ২২ জুলাই বাগেরহাট থেকে তাকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানন্তর করা হয়। সেই থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি।

বাগেরহাট কারাগারের নথি অনুযায়ী, বন্দী অবস্থায় গত বছরের ১২ মার্চ তিনি একজন সেল ইনচার্জকে হুমকি দেন এবং গালাগাল করেন। ৬ জুলাই অপর এক বন্দীকে মারধর করেন।

পরে তাকে যশোর কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৩ জানুয়ারি দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্নালী (২২) ও ৯ মাস বয়সী ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরের দিন শনিরার দুপুরে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে থেকে বিকাল সোয়া চারটার দিকে মরদেহবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম।

ওই দিন স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে রাত ১১ টা ২০ মিনিটে তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্বর্নালীর বাবার বাড়ির কবর স্থানে তার ও তার ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়।

স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এরই মধ্যে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেয়। যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বুধবার রাতে তিনি স্ত্রী-সন্তানের কবর জিয়ারত করতে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে শশুর বাড়িতে যান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad