রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে নিয়ে কোনো ধরনের ছেলেখেলা করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্টদের ফিরে আসার পথ সুগম করতে পারি না। এই বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের বিচার হবে, প্রতিটি খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হবে।’
রোববার বিকালে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির ১০তলা ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, কোনো গোপন বিচার হবে না, ন্যায়বিচার হবে এবং সেই বিচার নিশ্চিত করার পথেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষের মধ্যে আস্থা ও ভরসা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে সংকট তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বেড়েছে, এলএনজি আমদানিতেও সমস্যা হয়েছে। যেসব দেশ থেকে এলএনজি আনা হতো, সেখান থেকে জাহাজ আসতে পারছে না। এর মধ্যেও সরকার সংকট মোকাবিলায় কাজ করছে।
‘আমরা বলছি না যে সংকট নেই। আমরা বলছি সংকট আছে এবং সংকটের সমাধানের উপায় আমরা নিরন্তরভাবে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দিই না’—বলেন আইনমন্ত্রী।
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে কেউ হ্যারিকেন সামনে নিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে মিছিল করছেন, অন্যদিকে পেছনে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিয়ে ফ্যানের বাতাসও খাচ্ছেন। এটি বাস্তবতা। সরকার সংকট অস্বীকার করছে না, বরং সমাধানের চেষ্টা করছে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করেছে। এ বছরের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সব কৃষকের হাতে এ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে সাড়ে চার হাজারের বেশি সহযোগীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ৭০০-এর বেশি মানুষকে গুম করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি করার অপরাধে ৬০ লাখের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্ত বাধার প্রাচীর পেরিয়ে ২৪ শে জুলাইয়ের অভ্যুত্থান এসেছিল। তরুণ প্রজন্ম এমন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়ে গেছে, যে বাংলাদেশ পেতে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হারাতে হয়েছে। প্রায় ৩০ হাজার সাহসী তরুণ পঙ্গু হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘এদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই বাংলাদেশ নিয়ে আমরা ছেলেখেলা করতে পারি না। ফ্যাসিস্ট ফিরে আসার পথ আর সুগম করতে পারি না।’
আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে হবে। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের অবদান রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের রাজনীতি ধ্বংস করা হয়েছে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিগত সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একসময় ‘লাল টেলিফোনের’ মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ ছিল। সেই সংস্কৃতি দূর করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগে অনেক সমস্যা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব সমস্যা দূর করা হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বরিশাল-৩ আসনের এমপি জয়নুল আবেদিন, বরিশাল সদর আসনের এমপি মো. মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস জাহান শিরীন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ ফারুক হোসেন এবং বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ইমন।


