মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জালিয়াতি ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আলোচিত সেই এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।
এ ছাড়াও মাগুরার দুটি আসনের আরও তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। শনিবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজটি আমার কর্মীরা করেছেন। সে ক্ষেত্রে কোনো ভুলত্রুটি আছে কিনা বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে আপিল করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেবো।’
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অন্যরা হচ্ছেন মাগুরা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক যুবলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া, গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান এবং মাগুরা-২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মশিউর রহমান।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মাগুরা-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত যে তালিকা দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে দৈব চয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়। এ সময় দেখা গেছে, একজন মৃত ব্যক্তিসহ নয়জনের স্বাক্ষরই জাল করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে সবমিলিয়ে মাগুরা-১ ও ২ আসন থেকে মোট চারজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে মাগুরা-১ আসন থেকে আটজন ও মাগুরা-২ আসন থেকে তিনজন প্রার্থী বৈধ হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। একই সঙ্গে বাতিল ঘোষিত হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের রোষানলে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে বলে দাবি করেছেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা-১ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনেই জেলা প্রশাসক তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। সেদিন তিনি প্রতিবাদ করায় ও বিভিন্ন পত্রিকায় সে বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ইচ্ছাকৃত ও বেআইনিভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।


