দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সমন্বিত ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন সেন্টার’ গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার থেকে তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টায় চাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সমাজসেবা ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক তাহসিনা রহমান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর আগে ২০২২ সালে সিলেট, ২০২৪ সালে ফেনী এবং প্রায় প্রতি বছরই উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে কাজ করার লক্ষ্যে “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসন সেন্টার” গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বিভাগভিত্তিক সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো এই প্ল্যাটফর্মের অধীনে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর তহবিল গঠন, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া, সুশৃঙ্খল ত্রাণ বিতরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে।
তাহসিনা রহমান আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের সঙ্গে ইতোমধ্যে দুই দফা বৈঠক হয়েছে এবং তিনি প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছেন। আগামী ১৬ জুলাই উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। শিগগিরই কেন্দ্রটির গঠনতন্ত্র প্রকাশ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রটির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং পালি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন সাকিন বলেন, ‘এ পর্যন্ত ৩৯টি জেলা ও উপজেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রতিটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।’
উপদেষ্টা পরিষদ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর ও হিসাব নিয়ামককে উপদেষ্টা পরিষদে রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে গঠনতন্ত্র এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তহবিল পরিচালনার জন্য শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের সমন্বয়ে ব্যাংক হিসাব খোলার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ হোসাইন বলেন, ‘এটি শিক্ষার্থীভিত্তিক একটি প্ল্যাটফর্ম হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সম্পৃক্ততা থাকবে। এখানে কোনো একক নেতৃত্ব থাকবে না। সবাই দলগতভাবে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ করবেন।’
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠনসহ ২১টি জেলা ও উপজেলা স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কয়েকজন শিক্ষার্থী কেন্দ্রটি গঠনের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করে অনুমতি চেয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিগগির উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’


