চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। কোনো কেন্দ্রে ভুলত্রুটি বা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আইনি সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের চেয়েও সরকার ঠিকভাবে পরীক্ষা নেওয়া এবং চলমান দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।
পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রশমনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে সরকারও চিন্তিত। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পূর্বাভাস পাওয়ায় পরীক্ষা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান মন্ত্রী। পরীক্ষা চলাকালে দেশের কোনো কেন্দ্রে পানি ওঠার খবর পাওয়া মাত্র স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিকল্প কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিস্থিতি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু জায়গায় পানি উঠলেও দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এরপরও প্রশাসনের কোনো গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পারলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তথ্য যাচাই করে সেখানে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
সরকারের কাছে পর্যাপ্ত বিকল্প প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম বোর্ডে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে প্রয়োজন হলে যেকোনো ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে।
আন্দোলন ছেড়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিলন বলেন, শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের কোনোভাবে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে না।
প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।


