বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘আমরা যদি সুস্থভাবে জীবন-যাপন করতে চাই, তাহলে অবশ্যই পোড়া তেলের ব্যবহার বাদ দিতে হবে।’
সোমবার বিএফএসএ-এর প্রশিক্ষণ কক্ষে এক সেমিনারে একথা বলেন তিনি। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে ‘মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ব্যবহৃত রান্নার তেলের ক্ষতিকর প্রভাব’ শীর্ষক সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিএফএসএ চেয়ারম্যান মুয়েন্জার বাংলা প্রাইভেট লিমিটেডকে তাদের ইতিবাচক কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাদের কার্যক্রমকে প্রান্তিক পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার অনুরোধ জানান, যাতে পরিবেশ ও মাটির সঙ্গে মিশে এসব পোড়া তেল বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করতে না পারে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফএসএ সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। তিনি জানান, শিল্পজাত ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ট্রান্স ফ্যাট রক্তনালিতে জমে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতি এক লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৯ জন হৃদরোগে মারা যান, যার মধ্যে প্রায় ৪ শতাংশ মৃত্যুর সঙ্গে ট্রান্স ফ্যাটের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২১ সালে ট্রান্স ফ্যাটি এসিড নিয়ন্ত্রণ প্রবিধানমালা প্রণয়ন করে, যা ২০২২ সালে কার্যকর হয়। এতে খাদ্যে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ ট্রান্স ফ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।
লিখিত উপস্থাপনায় তিনি জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষায় অতিরিক্ত ট্রান্স ফ্যাট পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেল, ডালডা, বাটার ও মার্জারিনের একাধিক নমুনায় নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্স ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়।
বিশেষ অতিথি বিএফএসএ সদস্য ড. মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, পোড়া তেল ব্যবহারের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি ও নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। যেখানে ট্রান্স ফ্যাটের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে কঠোরভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
উপপরিচালক মো. রুহুল আমিন জানান, গত রমজানে ৭২০টি মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের ব্যবহৃত তেল পুনঃব্যবহার না করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে।
সেমিনারে জানানো হয়, বারবার ব্যবহৃত তেল থেকে ট্রান্স ফ্যাট ও ফ্রি র্যাডিক্যাল তৈরি হয়, যা ক্যান্সার, হৃদরোগ ও লিভার রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অ্যাসিস্টেন্ট সায়েন্টিস্ট ড. আহমেদ খায়রুল আবরার বলেন, পোড়া তেল ক্যান্সারের ঝুঁকি তৈরি করে এবং ২–৩ বারের বেশি তেল ব্যবহার করা অত্যন্ত ক্ষতিকর।
বক্তারা বলেন, ব্যবহৃত পোড়া তেল সরাসরি খাদ্যে পুনঃব্যবহার না করে তা সংগ্রহ করে বায়োডিজেলসহ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদনে ব্যবহার করা সম্ভব। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে টেকসই উন্নয়নেও অবদান রাখা যাবে।
সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, খাদ্য ব্যবসায়ী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


