দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে রাজনীতিমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪-এর অধীনে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির গঠনসংক্রান্ত বিদ্যমান আইনি কাঠামো চ্যালেঞ্জ করে এ রিট করা হয়। রুলে সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে সব শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য প্রবিধানমালার ৭ নম্বর বিধি সংশোধনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
বিকল্পভাবে, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা কোনো রাজনৈতিক দলে পদ বা অবস্থানে থাকা ব্যক্তিদের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচন, মনোনয়ন বা অনুমোদনের অযোগ্য ঘোষণা করে নতুন প্রবিধান প্রণয়ন করা হবে না কেন, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং সততার অধিকারী অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় অধিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে উপযুক্ত বিধান করা হবে না কেন, সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে বিচারিক নির্দেশনা কেন জারি করা হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করতে হবে এবং এসব কমিটিতে সততা, শিক্ষা বিষয়ে অঙ্গীকার ও জনআস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। শুনানিতে রিটের পক্ষে আইনজীবী মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা উপস্থিত ছিলেন।


