চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, ‘আমাদের সন্তানদের রক্তের ঋণ আমরা নির্বাচনে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পরিশোধ করব। সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। আমাদের এই কর্মযজ্ঞ যেন আবার আগের মতো কালিমালিপ্ত না হয়।’
রোববার মীরসরাই কলেজ হলরুমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উপজেলার ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী দায়িত্ব সবার জন্য দেশপ্রেমের একটি জ্বলন্ত পরীক্ষা। আমরা সবাই সেই পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছি। কারণ দেশের মানুষ প্রত্যাশা করে তারা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নির্বাচনে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে, অপরাধীরাও অপরাধ করার চেষ্টা করতে পারে। তবে অপরাধ যে করবে, সে যেন অপরাধ করে পার না পায়—এটাই আমার প্রত্যাশা। আমরা যেন কোনোভাবেই অপরাধীদের সুযোগ না দিই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর যে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে, তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে। যদি কারও কোনো আতঙ্ক, ভয় কিংবা সমস্যা থাকে, তা জানাতে হবে।’
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্নের জবাবে উপস্থিত কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসককে আশ্বস্ত করে বলেন, তারা নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। জাতির কাছে পূর্বের যে কলঙ্ক রয়েছে, তা ঘুচিয়ে দেওয়ার বিষয়েও সবাই অঙ্গীকার করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, ‘নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের রূপরেখা প্রণয়ন করতে চাই। আমাদের নিজ নিজ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চাই—আমরাও পারি।’
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বশির আহমেদ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম, মীরসরাই আর্মি ক্যাম্প কমান্ডার রেজাউল করিম রিজভী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলাউদ্দিন কাদের, সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোহাম্মদ নাদিম হায়দার চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার।
উল্লেখ্য, মীরসরাই উপজেলার ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে ১১৮ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৭৩৬ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৫০৮ জন পোলিং অফিসারকে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন, বিধি-বিধান, দায়িত্ব ও আচরণবিধি বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


