দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায়। টানা ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের একদিন পরেই হতে যাওয়া এ নির্বাচনের দিকে এখন সকলের নজর। ডাকসুতে বিপুল ভোটে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল জয়ী হওয়ায় জাকসু নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আরো বেড়েছে।
জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে ঘিরে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষার্থীদের কেউ দলবেঁধে, আবার কেউ একা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসছেন।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার অপেক্ষা করেন অনেকে।

নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে দিনভর ভোটকেন্দ্রগুলোতে থাকবে শিক্ষার্থীদের ভিড়। এরপর ভোট গণনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে সন্ধ্যা ৭টায়।
জাকসু নির্বাচন ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে এক হাজার ২০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে আনন্দ উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয় নির্বাচনী প্রচারণা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত মোট আটটি জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সর্বশেষ নির্বাচনটি হয়েছিল ১৯৯২ সালে। গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র আন্দোলনের পর, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ৩০ বছর পর আবার জাকসু নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণা করে।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় রয়েছে: সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে নয় জন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নয় জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী) পদে ছয় জন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ) পদে ১০ জন, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে নয় জন, পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক পদে ছয় জন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে আট জন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আট জন, সহকারী সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আট জন, নাট্য সম্পাদক পদে পাঁচ জন, ক্রীড়া সম্পাদক পদে তিন জন।
এছাড়া সহকারী ক্রীড়া সম্পাদক পদে ছয় জন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে সাত জন, সমাজসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক পদে আট জন, সহকারী সমাজসেবা সম্পাদক (নারী) পদে সাত জন, সহকারী সমাজসেবা সম্পাদক (পুরুষ) পদে সাত জন, স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা সম্পাদক পদে সাত জন, পরিবহন ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে সাত জন। নির্বাহী সদস্য (নারী) পদে ১৬ জন ও নির্বাহী সদস্য (পুরুষ) পদে ২৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এছাড়াও, ১১টি ছেলেদের হলে মোট ১৬৫টি পদে ৩১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৬১টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। আরও ৭টি পদে কেউ মনোনয়ন জমা দেননি, ফলে সেগুলো শূন্য থাকবে। বাকি ৯৭টি পদে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচিত হবেন।

১০টি মেয়েদের হলে মোট ১৫০টি পদের মধ্যে মাত্র ৩৪টি পদে ভোট হবে। ৫৮টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন এবং বাকি ৫৮টি পদে কোনো মনোনয়ন জমা না পড়ায় সেগুলো শূন্য থাকবে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় হাজার ১০২ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ হাজার ৮১৭ জন।


