পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশ বাহিনীর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে এই বাহিনীর ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করতে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জিং সময়গুলো কাটিয়ে পরিস্থিতি এখন অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন এবং জনগণের প্রশংসা অর্জন করেছেন।
সোমবার সিআইডি সদর দপ্তর, ঢাকায় আয়োজিত সিআইডির দুই দিনব্যাপী ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, অপরাধ তদন্তে সিআইডি দেশের শীর্ষ সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সিআইডি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা ও দায়িত্ববোধ দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করছে।
তিনি সিআইডির তদন্তের উচ্চমান ও দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের আরও পেশাদার হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গুটি কয়েক সদস্যের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায় পুরো বাহিনী নেবে না।
তাই ব্যক্তিগত স্বার্থ ও অনিয়ম থেকে দূরে থেকে শতভাগ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি রেসপন্স টিমকে সর্বদা প্রস্তুত রাখার ওপরও তিনি জোর দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, গত দুই দিনের পর্যালোচনায় প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে আগামী তিন মাসের জন্য একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো একজন সদস্যের ভুলের কারণে সিআইডি তথা পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া বরদাস্ত করা হবে না। বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্ত ও কুইক রেসপন্স টিম গঠনের মাধ্যমে সিআইডিকে আরও আধুনিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠান শেষে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। সভায় সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সশরীরে এবং জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।


