গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থানায় ঢুকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশ সদস্যদের মারধরের মামলায় প্রধান আসামিসহ আরও দুই জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
রোববার বিকালে ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের দীঘলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন প্রধান আসামি পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক পলাশ আহমেদ (৩৫) এবং উপজেলা জামায়াতের রোকন গোলজার রহমান (৩৪)।
এর আগে, একই মামলায় পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের ২ নম্বর ওয়ার্ড সেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম কানন এবং পৌর জামায়াতের সাবেক আমির ও উপজেলা পেশাজীবী বিভাগের সেক্রেটারি মিজানুর রহমান মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলা যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশসহ কয়েকজন একটি বিবদমান দোকানসংক্রান্ত অভিযোগপত্র নিয়ে থানায় যান।
এ নিয়ে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তর্কবিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে জামায়াত নেতা পলাশ শহরের কালিবাড়ী বাজারে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ওই বিবদমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে ওসির ওপর চাপ প্রয়োগ করেন।
ওসি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) এখতিয়ারভুক্ত বলে জানালে ওই নেতা ও তার সঙ্গীরা তার ওপর চড়াও হন।
এক পর্যায়ে ওসিকে মারধর করা হয়। এ সময় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদেরও মারধর করা হয়। এতে ওসি ও এক নারী কনস্টেবলসহ পুলিশের নয় সদস্য আহত হন।
ঘটনার পর দিন পলাশকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ।
ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


