দেশে পুরোনো রাজনীতি নতুন রূপে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর নতুন বাংলাদেশের যে যাত্রা শুরু হয়েছে, সেখানে পুরোনো আধিপত্যবাদী রাজনীতি নতুন রূপে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ছাত্রশিবির জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় সাম্য ও মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হলেও রাষ্ট্র কাঠামোর মৌলিক সংস্কার এখনো হয়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকারও এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা রক্ষায় ‘জুলাই সনদ’ গণভোটের মাধ্যমে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশজুড়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে চাঁদাবাজি, ব্যবসায়ী হত্যাকাণ্ড, দলীয় আধিপত্য বিস্তার, জনতাকে ব্যবহার করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা হয়।
বক্তব্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নোয়াখালী, ফেনী, নওগাঁ ও ঝিনাইদহে নারী নির্যাতন এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগও আনা হয়।
এ সময় গণমাধ্যমের একাংশের পক্ষপাতিত্ব, সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি, সংবাদ নিয়ন্ত্রণ এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগও তুলে ধরা হয়।
ছাত্রশিবির আরও জানায়, আওয়ামী লীগের বিচার কার্যক্রম ধীরগতির এবং জামিন বাণিজ্য ও মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে, যা জুলাই শহীদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
সংগঠনটি আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির সমালোচনা করে জানায়, নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও নৈরাজ্যের কোনো স্থান নেই এবং জনগণ ও ছাত্রসমাজ যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করবে।
দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।


