জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ করার প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সিনেট অধিবেশনে উত্তপ্ত আলোচনা ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ৪৩তম বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সিনেট সদস্য অধ্যাপক শামীম কায়সার হলটির নাম পুনর্বহালের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল নামে পরিচিত আবাসিক হলটি আগে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ নামে ছিল। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থে হলটির আগের নাম পুনর্বহাল করা উচিত বলে আমি মনে করি। একই সঙ্গে তিনি বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনার আহ্বান জানান।
তবে এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবীব। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়নে স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়কে পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার দাবি, স্বাধীনতার পর গৃহীত কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থাপনার নাম পুনরায় তার নামে রাখার যৌক্তিকতা তিনি দেখেন না।
এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সিনেট সদস্য আবুল কালাম আজাদ বঙ্গবন্ধুকে ‘স্বৈরাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সিনেট বিতর্কের স্থান নয়। তবে ইতিহাস নিয়ে আলোচনা হলে তিনি তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত। মুক্তিযুদ্ধ এবং এর নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল’ রাখা হয়। ওই সিদ্ধান্তের পর এবারই প্রথম সিনেট অধিবেশনে হলটির আগের নাম পুনর্বহালের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপিত হলো।


