Author: আহমেদ জামান শিমুল

সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় স্থানীয় বাস্তবতা যেমন আছে, তেমনি মানবজীবনের চিরন্তন অভিজ্ঞতাও রয়েছে— যা তাকে স্থান দিয়েছে বিশ্ব সিনেমার অন্যতম শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে। তিনি এমন একজন নির্মাতা যার নির্মাণ ভৌগলিক সীমা-পরিসীমা অতিক্রম করেছে। ১৯৫৫ সালে ‘পথের পাঁচালী’ মুক্তির পর তৈরি হয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে আলোড়ন। একে শুধু একটি সফল ও সুনির্মিত চলচ্চিত্রের বিপরীতে বোদ্ধাদের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটিকে ধরা হয় নতুন চলচ্চিত্রভাষার আবির্ভাব। যে ভাষা ছিল সর্বজনীন। সংযত ক্যামেরা, অভিনয়শিল্পীদের প্রকৃতির মত সরল-সুন্দর অভিনয়, এবং জীবনের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ—এই উপাদানগুলো সত্যজিতের কাজকে আলাদা করে তুলেছে। আমেরিকান নির্মাতা মার্টিন স্কোরসেজি সত্যজিতের ‘অপু ট্রিলজি’ দেখার পর মন্তব্য করেছিলেন, ‘অপু ট্রিলজি আমাকে…

Read More

২৯ এপ্রিল। ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ—কিন্তু নৃত্যশিল্পীদের কাছে এটি এক বিশেষ দিন। ‘বিশ্ব নৃত্য দিবস’ আসলে শুধু কোনো আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি এমন এক শিল্পের প্রতি সম্মান, যা শব্দ ছাড়াই মানুষের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে। ভাষা, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক সীমানা—সবকিছুকে অতিক্রম করে নৃত্য মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়। বাংলাদেশে বিশ্ব নৃত্য দিবস উদযাপন শুরু হয় মূলত নব্বইয়ের দশকের শুরুতে। ১৯৯২ সাল থেকে এটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে, যেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা। এ বছর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালার মিলনায়তনে দিবসটি পালিত হচ্ছে। সেখানে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়েছে ‘নৃত্যানুষ্ঠান’-এর।…

Read More

সিনেমা হলের অন্ধকার পর্দায় চলছে বিল্লি জিন। গানটির তালে মাতাল দর্শকদের কেউই আসনে বসে নেই। কেউ গুনগুন করছে, কেউ উঠে দাঁড়িয়েছে, কেউ নাচছে। মুহূর্তটা সিনেমার হলেও পুরো হল কনসার্টে রূপ নিয়েছে। এমনই চিত্র দেখা যাচ্ছে বিশ্ব জুড়ে মাইকেল জ্যাকসন প্রেমীদের মধ্যে। মৃত্যুর ১৭ বছর পর মুক্তি পেয়েছে তার বায়োপিক ‘মাইকেল’। সিনেমাটি রীতিমত বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। এই ঝড় অবশ্য সমালোচকদের মনেও উঠেছে, মাইকেলকে নিয়ে থাকা নানা বিতর্কের কারণে। তাদের যৌক্তিক প্রশ্ন— বায়োপিক কি সত্যের বিকল্প হতে পারে? শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) মুক্তির দিনেই উত্তর আমেরিকায় প্রায় ৩৯.৫ মিলিয়ন ডলার আয়—এক কথায় বিস্ময়কর। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত ২১৭ মিলিয়ন ডলার। ‘স্ট্রেট আউটা কম্পটন’,…

Read More

অভিনেত্রী প্রিয়াম অর্চি বর্তমানে আছেন যুক্তরাজ্যে। সেখান থেকে সাম্প্রতিক কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন। ২০১০ এর ‘লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার’-এর শীর্ষ দশে ছিলেন প্রিয়াম। দেশে থাকতে কাজ করেছেন বহু নাটকে। অভিনয় করেছেন ‘পায়ের তলায় মাটি নেই’, ‘ক্যাফে ডিজায়ার’ ও ‘বলী’-র মতো দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসিত চলচ্চিত্রে। তবে ক্যারিয়ারের শুরু থেকে তিনি যে মাধ্যমেই কাজ করেন না কেনো কাজের সংখ্যার চেয়ে মানে বেশি মনযোগ দিয়েছেন। সামাজিক বাস্তবতা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কিংবা সমকালীন জীবনের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট— তার অভিনীত কাজগুলোতে বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে। তার অধিকাংশ কাজই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে, পেয়েছে পুরস্কারও। প্রিয়াম জানান, তিনি ব্যস্ত…

Read More

ঢাকার রাজপথে এক যুবক ভবঘুরের মত ঘুরে বেড়াচ্ছে। সে যুবক কখনও গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কিংবা ডিআইটি ভবনের সামনে। সাদা স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে সে ঢাকার ‘পীচ ঢালা’ পথে হেঁটে বেড়াচ্ছে। তার পাশ দিয়ে দোতলা বাস, গরুর গাড়ি, রিকশা, বেবি ট্যাক্সি, প্রাইভেট কার সবই যাচ্ছে। তার সে দিকে কোনো খেয়াল নেই। কণ্ঠে ‘পীচ ঢালা এ পথটাকে ভালোবেসিছি’। কিন্তু তার এ ভালোবাসার কারণ অন্য। কখন ভিড়ের মধ্যে, কখন একা হেঁটে যাওয়া মানুষের পকেট থেকে মানিব্যাগ নিয়ে সে চম্পট দিচ্ছে। এমন দৃশ্য ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম ক্লাসিক ‘পীচ ঢালা পথ’-এর। বিখ্যাত এ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রে শাবানা, শাবনূরসহ অনেক বিখ্যাত নায়িকার…

Read More

শঙ্খ দাশগুপ্ত  ছোটপর্দায় নির্মাণ করেছেন অনেক ফিকশন। যার বেশিরভাগই দর্শক ও বোদ্ধা মহলে প্রশংসিত হয়েছে। ওটিটি ও চলচ্চিত্রে তিনি তার মুন্সিয়ানা ‘গুটি’, ‘প্রিয় মালতী’-তে দেখেছে দর্শক। সম্প্রতি চরকিতে মুক্তি পাওয়া তার ‘চা গরম’ বেশ আলোচিত হচ্ছে। তিনি এ সফলতাকে কীভাবে দেখেন? শঙ্খ বলেন, ‘সবাই ভালো বলছে এটা নিশ্চয়ই ভালো লাগার। কিন্তু এটাকে চূড়ান্ত সাফল্য বলবো না। আমার কাছে সাফল্য তখনই, যখন ছবিটা সময় পেরিয়েও থেকে যাবে, বা কেউ আবার ফিরে এসে দেখবে।’ শঙ্খের এই আত্ম-অন্বেষণের সূত্র খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় ‘গুটি’ এবং ‘প্রিয় মালতী’–তে। বিষয়বস্তু, টোন, নির্মাণ—সবখানেই নিজেকে ভাঙার চেষ্টা আছে, আবার কিছু সাদৃশ্যও রয়ে গেছে। তিন কাজেই কেন্দ্রীয়…

Read More

ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রজেকশন নিয়ে অনেকেই এ শতাব্দীর শুরু থেকে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে জাজ মাল্টিমিডিয়া। ২০১২ সালের ৫ অক্টোবর ‘ভালোবাসার রঙ’ ছবিটি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা। চমক নিয়েই শুরুটা করেছিলো জাজ। ইন্ডাস্ট্রিতে উপহার দিয়েছিলেন বাপ্পী চৌধুরী ও মাহিয়া মাহিকে। দুজনেই ঢালিউডে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। এরপর তারা উপহার দেন শিপন চৌধুরী, সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ফারিয়া, পূজা চেরী, রোশানসহ অনেক শিল্পী। এমনকি সৈকত নাসির, রায়হান রাফির মত পরিচালকদের অভিষেক হয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের হাত ধরে। উপহার দিয়েছে ‘অগ্নি’, ‘অগ্নি ২’, ‘শিকারী’, ‘বাদশা’, ‘নবাব’, ‘ডুব’, ‘রক্ত’, ‘রোমিও বনাম জুলিয়েট’-এর মত ব্যবসাসফল ছবি। তাছাড়া দেশীয় সিনেমা হলগুলোতে…

Read More

আকাশে আবারও গর্জে উঠতে যাচ্ছে জেটের ইঞ্জিন, আর ককপিটে ফিরছেন সেই চিরচেনা পিট ‘মাভেরিক’ মিচেল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা এসেছে— ‘টপ গান ৩’-এর। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিনেমাকনে এই ঘোষণা দিয়েছে প্যারামাউন্ট পিকচার্স। টম ক্রুজের সঙ্গে আবারও প্রযোজক হিসেবে থাকছেন জেরি ব্রাকহেইমার। আর ৬৩ বছর বয়সেও টম ক্রুজ যখন আবার আকাশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হলিউডের ইতিহাসে কিছু চরিত্র আছে, যারা কেবল সিনেমার গল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না; সময়ের সঙ্গে তারা দর্শকের স্মৃতি, আবেগ এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে ওঠে। ‘মাভেরিক’ ঠিক তেমনই এক চরিত্র। ১৯৮৬ সালে টনি স্কটের পরিচালনায় মুক্তি পাওয়া ‘টপ গান’ শুধু একটি অ্যাকশন চলচ্চিত্র ছিল না, বরং…

Read More

চার্লি চ্যাপলিন— বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসে যে নামটি শুধু অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং প্রতিষ্ঠান হিসেবে অমর। পুরো নাম স্যার চার্লস স্পেন্সার চ্যাপলিন জুনিয়র। ৭৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি কেবল মানুষকে হাসাননি, বরং চোখের কোণে জল আর মনে প্রতিবাদের আগুনও জ্বালিয়ে দিয়েছেন। ১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল লন্ডনে এক দরিদ্র পরিবারে চ্যাপলিনের জন্ম হয়। তার বাবা চার্লস চ্যাপলিন সিনিয়র ছিলেন একজন মদ্যপ এবং পরিবারের প্রতি উদাসীন; চ্যাপলিনের বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখনই তার মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। তার মা হান্না চ্যাপলিন ছিলেন একজন মিউজিক হল পারফর্মার, কিন্তু মানসিক অসুস্থতার কারণে তাকে বারবার মানসিক হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। মাত্র ৯ বছর বয়সের আগেই চ্যাপলিনকে দুবার…

Read More

১৯৭০ সালের ১০ এপ্রিল। তৎকালীন আমাদের রাজনৈতিক আকাশ তখন উত্তাল। ঠিক সেই মাহেন্দ্রক্ষণে মুক্তি পায় জহির রায়হানের অনন্য সৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার নেশায় মত্ত এক জাতির সামনে এই চলচ্চিত্রটি নিছক বিনোদন হিসেবে নয়, বরং প্রতিবাদের এক শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সিনেমার শুরুতে একটি স্লোগান ছিল— ‘একটি দেশ, একটি সংসার, একটি চাবির গোছা, একটি আন্দোলন, একটি চলচ্চিত্র’। জহির রায়হান অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে একটি সাধারণ পরিবারের গল্পের আড়ালে একটি রাষ্ট্রের শোষণের চিত্র তুলে ধরেছেন। সিনেমার প্রধান চরিত্র বড় বোন রওশন জামিল ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তানি স্বৈরশাসক আইয়ুব খান বা ইয়াহইয়া খানের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বাড়ির সব ক্ষমতা তার হাতে…

Read More