জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের দূরত্ব বাড়ছে। এর প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনের ওপরও পড়তে পারে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলমান থাকলেও ইসলামী দলগুলোর রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা বিএনপিকে উদ্বিগ্ন করেছে।
দলটি মনে করছে, সনদ বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার ষড়যন্ত্র চলছে। এ আন্দোলনকে নির্বাচন বানচালের পরিকল্পনা হিসেবেও দেখছে বিএনপি।
এই আন্দোলনের লক্ষ্য আসলে কী, তা নিয়ে বিএনপির অনেক নেতাই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। তারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, নাকি বিএনপি এই আন্দোলনের লক্ষ্যবস্তু?
আলোচনার মধ্যে দলগুলোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়াকে স্ববিরোধী বলেও মনে করে বিএনপি।
গত ২০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ৩০ থেকে ৩৫টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। তবে এসব বৈঠকে কোনো সমঝোতা আসেনি।
সবশেষ গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে বৈঠকেও সমাধান আসেনি। সেই বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে এবং এর আগেই সমঝোতায় পৌঁছতে হবে।
এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আইনগত ভিত্তি ও
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে নানা কর্মসূচি দিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলছে। কিন্তু আলোচনার মধ্যে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া স্ববিরোধিতা ছাড়া কিছু নয়। প্রশ্ন হলো, এই আন্দোলন কাদের বিরুদ্ধে? নাকি নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার জন্যই এটি?’
অন্যদিকে, আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘এই আন্দোলন কারো বিরুদ্ধে নয়, এটি জনগণের পক্ষের আন্দোলন। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ফ্যাসিবাদ ও দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি।’
তিনি যোগ করেন, ‘কমিশনের বৈঠকে আমাদের দাবি প্রতিফলিত হচ্ছে না। তাই আমরা আলোচনার পাশাপাশি রাজপথেও আছি।’
একই ধরনের কথাই বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে নির্বাচন হোক। যেহেতু আলোচনায় আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে না, তাই রাজপথে আন্দোলন শুরু করেছি।’


