ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের কৃষকদের একটি পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল ও স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে কৃষক কার্ড সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষকদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ভুল ও স্বচ্ছ হতে হবে। এজন্য যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছবি ও কিউআর কোড-সংবলিত কৃষক কার্ডে কৃষকের পরিচয়ের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন, সরকারি সহায়তা এবং কৃষি বাজারসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব বিষয় বিবেচনায় রেখে কার্ড প্রস্তুতের নির্দেশও দেন তিনি।
বৈঠকে জানানো হয়, কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে কৃষকদের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
এর আগে, গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় প্রাক-পাইলট ভিত্তিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন ২২ হাজার ৬৫ জন প্রান্তিক কৃষকের মোবাইল ওয়ালেটে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
সরকার জানিয়েছে, বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে কৃষি খাতে ভর্তুকি, সহজ শর্তে ঋণ, প্রণোদনা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে দ্রুত ও সহজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষক এই কার্ডের আওতায় আসবেন। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রায় দুই কোটি কৃষককে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেডের সভাপতি এস এম আমীর হামজা শাতিলসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


