চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন বর্জন করে উপাচার্যকে একটি খোলা চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। শনিবার ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে উপাচার্যকে দেওয়া চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও আগামী বাজেটে শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ১৯ দফা দাবি পেশ করা হয়।
এতে চাকসু প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে পাঁচজন নির্বাচিত সিনেট সদস্যের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ছাড়া বর্তমান সিনেটে বিগত সরকারের সমর্থক ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষক প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কারণ দর্শিয়ে ছাত্র সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দেয়।
চিঠিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন, যাতায়াত এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে চাকসুর পক্ষ থেকে উপাচার্যের নিকট সরাসরি বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে-
পরবর্তী চাকসু, হল সংসদ ও সিনেট নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং ছাত্র সংসদের বার্ষিক পরিচালন বাজেট নিশ্চিত করা।
সব আবাসিক হলের আধুনিকায়ন, আলাওল ও এ. এফ. রহমান হলের এক্সটেনশন ভবন নির্মাণ, ন্যূনতম ৩০ শতাংশ আবাসন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আবাসন সুবিধাবঞ্চিত অন্তত তিন হাজার শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা দেওয়া।
শহরগামী নতুন ১০টি বাস চালু এবং শাটল ট্রেনে অতিরিক্ত বগি ও নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন।
টিএসসি ও মুক্তমঞ্চের কাজ দ্রুত শুরু করা, কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম ও আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং গবেষণা খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো।
লাইব্রেরি ও রিডিং রুম শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) করা, মেডিকেল সেন্টারকে ৩০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, খাবারের মান বাড়াতে খাদ্য-ভর্তুকি নিশ্চিত করা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পূর্ণাঙ্গ ‘মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল/সেন্টার’ পরিচালনা করা।
উপাচার্য বরাবর পাঠানো এই খোলা চিঠিতে চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. ইব্রাহিম হোসেন (ইব্রাহীম রনি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিবসহ মোট ২৪ জন প্রতিনিধি সম্মতি জানিয়ে সই করেছেন। তবে এই বিবৃতির সাথে দ্বিমত পোষণ করে এতে অসম্মতি জানিয়েছেন ছাত্র সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক।
চাকসু প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসন এই ১৯ দফা দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সিনেট নির্বাচন সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেবে।
এর আগে, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানিয়ে মৌন মিছিলকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে সিনেট সভা আয়োজনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় শাখা ছাত্রশিবির। একই সাথে সংগঠনটি এই সিনেট অধিবেশন বয়কটের ঘোষণা দেয়। শুক্রবার রাতে চবি ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহানের সই করা এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবাদ জানানো হয়।


