মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কম এবং শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও এর প্রতি অনীহা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
তিনি বলেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রতি এখনো সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা কম। সাধারণ মানুষ যেমন অজ্ঞতার কারণে সেবা নেয় না, তেমনি শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এক ধরনের অনীহা দেখা যায়, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। এমনকি চিকিৎসক পরিবারের সদস্যরাও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিতে দ্বিধা করেন। বড় ঘটনা ঘটলেও অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে আসছেন না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
বিধান রঞ্জন রায় বাজেট ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের অকাজে অর্থ ব্যয় করতে কোনো সমস্যা হয় না, কিন্তু যখন কাজের প্রসঙ্গ আসে তখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও বাজেট প্রাপ্তিতে বাধা—এটি লজ্জাজনক।’
এ সময় মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, ‘আমাদের সমাজে এখনো মানসিক সমস্যা নিয়ে কথা বললে এলার্জির মতো প্রতিক্রিয়া হয়। গার্ডিয়ান, শিক্ষক ও সমাজের প্রতিটি স্তরে এওয়ারনেস তৈরি জরুরি। কারণ, সমাজ এখনো মানসিক সমস্যা স্বীকার করে না—ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা কমিউনিটি স্তরেও না।’
অন্যদিকে, চিকিৎসক জয়নুল আবেদীন টিটো বলেন, ‘আমাদের অটিজম সেন্টারগুলো অপারেশনাল প্ল্যান বন্ধ থাকায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না। ফলে অটিজম শিশুদের সঠিক চিকিৎসা হচ্ছে না। মন্ত্রণালয় বাজেট দিলে ও আগ্রহ দেখালে কাজ এগিয়ে যায়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যায়, অনেক সময় বাজেট না থাকায় কাজ শুরুই করা যায় না।’


