টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপ কমাতে শনিবার কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বাঁধের স্পিলওয়ের সবকটি জলকপাট(গেট) খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান এক জরুরী বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণে শনিবার বেলা ১১টার পর যে কোনো সময় পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সী লেভেল(এমএসএল)। হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। হ্রদের ইনফ্লো (পানির প্রবাহ), পানির উচ্চতা এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ের খোলার সময় পরিবর্তন বা গেট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হতে পারে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে প্রতি সেকেন্ডে ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে। নতুন করে জলকপাট খুলে দিলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ আরও বাড়বে। তবে হ্রদের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
১৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলী নদী ওপর বাঁধ দেওয়া হয়। এ বাঁধের ফলে ৭২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়। এ হ্রদের ফলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন করে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব আয় হচ্ছে।


