কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে দুই শ্রীলঙ্কান জেলেকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় জেলেরা। উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তি জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কার উপকূলে মাছ ধরতে গিয়ে তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর তারা ৩৬ দিন সাগরে ভেসে ছিলেন। এক পর্যায়ে স্রোতের টানে তারা বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছে যান।
শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সুলতান।
তিনি জানান, শুক্রবার রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় কুতুবজোম ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের মালিকানাধীন একটি ফিশিং ট্রলারের জেলেরা ভাসমান একটি ফাইবারগ্লাসের মাছ ধরার নৌকা থেকে দুই বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করেন। পরে শনিবার দুপুরে তাদের মহেশখালীর কুতুবজোমের তাজিয়াকাটা ঘাটে নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধার হওয়া দুজন হলেন এস এইচ চামিন্দা (৫১) ও সাউন্ডা হান্নাদিগিপোয়াতং (৩০)। তারা বাবা-ছেলে। তাদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তারা শ্রীলঙ্কার ডেভিনুওয়ারা এলাকার রুরাল হাসপাতাল রোডের বাসিন্দা এবং দেশটির মৎস্য ও জলজ সম্পদ বিভাগের নিবন্ধিত একটি মাছ ধরার নৌযানের সঙ্গে যুক্ত।
উদ্ধারকারী ট্রলারের মালিক জিয়াউর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সোনারচর এলাকায় ভাসমান ছোট একটি ফাইবারগ্লাসের নৌকায় দুই ব্যক্তিকে দেখতে পান তারা। তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। পরে ট্রলারে তুলে নিরাপদে মহেশখালীতে নিয়ে আসা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা দাবি করেন, প্রায় ৩৬ দিন আগে শ্রীলঙ্কা উপকূলে মাছ ধরার সময় তাদের নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এরপর তারা সাগরে ভেসে থাকতে বাধ্য হন। বেঁচে থাকার জন্য সমুদ্রে ধরা একটি বড় মাছ কাঁচা খেয়েই দিন পার করেছেন বলেও জানান তারা।
উদ্ধারকারী জেলেরা জানান, উদ্ধারের সময় দুইজনের শারীরিক অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। কূলে আনার পর তাদের খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে তারা উদ্ধারকারী জিয়াউর রহমানের বাড়িতে আশ্রয়ে রয়েছেন।
মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমরান মাহমুদ ডালিম বলেন, উদ্ধার হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয়, সমুদ্রে ভেসে পড়ার কারণ এবং তারা সত্যিই ৩৬ দিন সাগরে ছিলেন কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার দূতাবাসকে জানানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া দুই শ্রীলঙ্কান নাগরিকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পরিচয় ও ঘটনার সত্যতা যাচাই শেষে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


