ব্যাপক সংস্কারের ডামাডোলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থাপনাসহ পুরো শিক্ষাখাত। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিকুলাম পরিবর্তন, স্মার্ট ক্লাসরুম নিশ্চিতকরণসহ আনন্দময় পাঠ-পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে গুরুত্ব বাড়ছে কারিগরি শিক্ষার। সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনীমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ঘোষণা আসছে বারবার।
এ রকম এক সময়ে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। ইতঃপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (অ্যাকাডেমিক) দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
উচ্চশিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদক আলীম হায়দারের সঙ্গে কথা বলেছেন এই শিক্ষাবিদ।
টাইমস: দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সব কিছুর পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। কিন্তু শিক্ষার মান নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষাবিদ এবং শিক্ষা-প্রশাসক হিসেবে দেশের উচ্চশিক্ষা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: দেশের উচ্চশিক্ষার সমস্যা কী ও সম্ভাবনা কী–এটা মোটামুটি আমরা সবাই জানি। গত ২০-২৫ বছরে শিক্ষাখাতে ব্যাপক সংখ্যাগত পরিবর্তন হয়েছে। এখন আমাদের প্রায় ১৮০টি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। তার মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৭টি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে প্রায় ১১৬টি। এই মুহূর্তে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বলছি। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ বা মুরুব্বি সংগঠন। এই শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, তাদের দেশের উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে তৈরি করার জন্য অভিভাবকত্বের দায়িত্বে আছে ইউজিসি।
টাইমস: যেহেতু শিক্ষার্থী অনেক, এ কারণে উচ্চশিক্ষত বেকারের হারও মোট বেকারের প্রায় অর্ধেকে পৌঁছেছে। কিন্তু এমনটা কি হওয়ার কথা?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: সেটাই বলছি। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষা আমরা নিশ্চিত করতে পারছি না, এটা প্রথম সমস্যা। দ্বিতীয় সমস্যা হচ্ছে, আমরা শিক্ষার্থীদের যে শিক্ষায় শিক্ষিত করি, তাতে দেখা যাচ্ছে পরবর্তীতে চাকরির বাজারের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তার সেই অধীত শিক্ষার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পায় না অনেক ক্ষেত্রে। অথবা কোনো শিক্ষার্থীর জীবনের সঙ্গে তার অর্জিত শিক্ষা সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না।
এর মানে হলো, আমরা যে মানের ‘গ্র্যাজুয়েট’ তৈরি করি অথবা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অনুযায়ী যে স্নাতক সৃষ্টি করি, তারা চাকরির উপযুক্ত হয় না। এই যে শিক্ষিত বেকারের বিষয়ে আপনি বললেন, তার মানে হচ্ছে আমরা যে স্নাতক তৈরি করছি তা সংখ্যায় অনেক। কিন্তু প্রয়োজন হলো তাদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, চাকরির বাজারের সঙ্গে এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যাতে স্নাতক হওয়ার পর তারা চাকরির উপযুক্ত হয়।
টাইমস: জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষা বলতে আপনি কী বোঝাচ্ছেন?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: একজন স্নাতক যদি মনে করে যে, আমি চাকরি করব, যাতে তিনি চাকরি জীবনের সঙ্গে তার শিক্ষাটাকে সম্পর্কিত মনে করতে পারে, শিক্ষার সঙ্গে কর্মের একটা সামঞ্জস্য খুঁজে পান। আমাদের একটা বড় সংখ্যক শিক্ষার্থী মনে করেন, পাঁচ বছর তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিখেছেন সেই শিক্ষাটা কর্মজীবনে কোনো কাজে আসে না। এটার কারণ কী? এই জায়গাটাতে আমরা হাত দিতে চাই।
হয়তো একজন শিক্ষার্থী মনে করলেন, তিনি লেখাপড়া শেষে চাকরি করবেন না, নিজে নিজ উদ্যোক্তা হবেন বা ব্যবসা করবেন। সে ক্ষেত্রেও ওই শিক্ষার্থী যাতে তার অর্জিত জ্ঞানের সঙ্গে তার উদ্যোগের একটা সামঞ্জস্য খুঁজে পান।
একজন শিক্ষার্থী হয়তো ক্রীড়াবিদ হতে চান, স্বাধীন চিন্তক হতে চান, দার্শনিক হতে চান–সেটা তারা হোক। কিন্তু সেটা হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাটার একটা সম্পর্ক যেন খুঁজে পায় তারা। তার যেন মনে না হয় যে পাঁচ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা শিখেছে তা কোনো কাজে আসে না। এই জায়গাটাতে বর্তমান সরকার হাত দিতে চায়।
টাইমস: এখন উচ্চশিক্ষাকে সবাই চাকরির বাজারের সঙ্গে সম্পর্কিত করে ফেলছে। এজন্য ‘ইন্ডাস্ট্রি-রেডি গ্র্যাজুয়েট’ টার্মটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু উচ্চশিক্ষার লক্ষ্য কি শুধুই ‘ইন্ডাস্ট্রি-রেডি গ্র্যাজুয়েট’ তৈরি করা? মানে জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে…
ইউজিসি চেয়ারম্যান: আপনার কথা আমি বুঝতে পেরেছি। যে প্রশ্নটি করেছেন, এক কথায় জবাব হলো ‘না’। ঠিক আছে? উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জন করবে। বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্জন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় তাকে জ্ঞান অর্জন, জ্ঞান সৃষ্টি, জ্ঞান বিতরণ–এই চর্চার মধ্য দিয়ে গড়ে তুলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে মৌলিক ভূমিকা, সেখানে আমরা ‘কম্প্রোমাইজ’ করার কথা বলছি না। আমরা বলছি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক কাজগুলো থাকবে। একই সঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে ‘স্কিল বেসড এডুকেশনে’। যাতে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে এই ‘গ্র্যাজুয়েট’রা দেশে এবং দেশের বাইরে ‘এমপ্লয়েবল’ হয়, চাকরির উপযুক্ত হয়।
একজন ইঞ্জিনিয়ারের কিন্তু নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্র আছে, একজন ডাক্তারের নিজস্ব কর্মক্ষেত্র আছে। কিন্তু আমার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনেক বিষয় আছে, যেগুলোর সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মক্ষেত্র নেই। তাহলে এই বিষয়গুলোতে যারা উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে, জ্ঞান অর্জন করবে, জীবনযাপনের জন্য তাকে কোনো না কোনো একটা কাজ তো করতে হবে…তাই তো?
এজন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের জন্য যেমন প্রস্তুত করতে চাই, একই সঙ্গে জীবনযাপনের জন্যেও তারা যাতে প্রস্তুত হয়, সেই ‘স্কিল’টাও দিতে চাই। এজন্য সফট স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে এমন কিছু দক্ষতা তার মধ্যে আমরা ‘ইনফিউজ’ করতে চাই, যাতে করে তারা যে বিষয়ের ওপরে ডিগ্রি অর্জন করুক না কেন, জীবনযাপনের জন্য যেন কাজ খুঁজে পাওয়ার মতো সামর্থ্য অর্জন করে।
টাইমস: জ্ঞান সৃষ্টির কথা আসলে গবেষণার প্রসঙ্গ এসেই যায়। দেশে গবেষণার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা কী যথেষ্ট? বিশেষ করে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার জন্য ইউজিসি মাত্র তিন লাখ করে টাকা বরাদ্দ করে। এই অর্থে একটা মানসম্মত বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করা আসলেই সম্ভব কী?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: গবেষণার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি অথবা ইউজিসির মাধ্যমে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে, সেটা প্রয়োজনেয় তুলনায় অনেক কম। এই বিষয়ে কোনো বিতর্ক নেই। আরও বেশি গবেষণার জন্য আরো বেশি অর্থ প্রয়োজন আছে।
এবার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য আমরা প্রায় ২২৬ কোটি টাকা গবেষণার বাজেট দিতে পারছি। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় অনেক উন্নত, বিশ্বের যেকোনো দেশে তাদের গবেষণার বাজেট আমাদের চাইতে অনেক অনেক গুণ বেশি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের গবেষণায় বাজেট এত কম কেন? এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য আমি সঠিক ব্যক্তি নই। তারপরও শুধু আমার ধারণা আপনাকে বলছি…
টাইমস: বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে…
ইউজিসি চেয়ারম্যান: আমি বলছি তো… প্রত্যেকটা দেশের উন্নয়নের বিভিন্ন ধাপ থাকে। এজন্য আমরা বলি উন্নয়নশীল দেশ, মধ্যম আয়ের দেশ, উন্নত দেশ ইত্যাদি। উন্নয়নের বিভিন্ন স্তরে প্রতিটি দেশেরই কিছু অগ্রাধিকারের খাত থাকে। যেমন, একটি গরিব দেশের অগ্রাধিকার কী? অন্য, বস্ত্র এসবের ব্যবস্থা করা। উন্নয়নশীল দেশের অগ্রাধিকার আরেকটু বেশি। তাই না? তার অগ্রাধিকার তখন প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা। তারপর যখন আরেকটু উন্নতি হবে, তখন সে উচ্চশিক্ষায় অগ্রাধিকার দেবে। মূলত ‘ডেভলপমেন্টের কার্ভে’র ওপর নির্ভর করে ‘প্রাইয়োরিটি’র বিষয়টা।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, এই মুহূর্তে বাংলাদেশ উন্নয়নের যে পর্যায়ে আছে, আমার ধারণা, এই পর্যায়ে থেকে অন্য অনেক বড় বড় অগ্রাধিকার আছে বলে গবেষণ খাত অগ্রাধিকার পায় না, কিন্তু পাওয়া উচিত।
গবেষণার প্রয়োজনীয়তাটা কিন্তু সরকার অনুভব করছে। গবেষণার জন্য অন্য উৎসগুলো যাতে ঠিকমতো কাজে লাগানো যায়, সেই বিষয়গুলোকেও উৎসাহিত করা হয়। এটা আমার ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’। কিন্তু আপনার প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিতে পারে শুধু সরকার বা সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষ।
টাইমস: গবেষণার জন্য সেই অন্য উৎসগুলো কী?
ইউজিসি চেয়ারম্যান: গবেষণার অর্থ শুধু যে সরকারি উৎস থেকে আসে, একটা গবেষণার কাজের জন্য তিন ধরনের উৎস থেকে সাধারণত অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ আছে। অর্থাৎ একটি হচ্ছে সরকার সরাসরি টাকা দেবে।
দ্বিতীয়টি হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণা প্রকল্পের অংশ হওয়া; বাংলাদেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্প নেবে, আন্তর্জাতিকভাবে দর করবে, দর করে তারা গবেষণা প্রকল্প জিতে নেবে, এরপর সেই গবেষণা প্রকল্পগুলো তারা বাস্তবায়ন করবে।
তৃতীয়ত, শিল্প-কারখানার সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা। এর মধ্য দিয়ে শিল্প-কারখানার যে গবেষণার প্রয়োজন (সেই ইন্ডাস্ট্রি সরকারিও হতে পারে, বেসরকারিও হতে পারে), সেই শিল্প-কারখানার চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেই গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সরকার গবেষণার জন্য সরাসরি যে অর্থায়ন করছে, তার পরিমাণ কম। এটাকে অনেকটা অনুপ্রেরণামূলক ধরা যেতে পারে। কিন্তু বাকি যে দুইটা মাধ্যম আছে, সেখানে আমরা পিছিয়ে কেন? আমরা সবসময় শিক্ষকদের ও গবেষকদের উৎসাহিত করব যাতে তারা ওই দুই মাধ্যম থেকে বেশি বেশি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
টাইমস: এরপরও গবেষণায় কয়েক দশক ধরে যে বরাদ্দ হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক ও গবেষকরা বরাদ্দ নিচ্ছেন, কাজ করছেন, গবেষণাপত্র জমা দিচ্ছেন। কিন্তু গত দুই দশকেও আমরা আলোচিত কোনো গবেষণার কথা শুনি না কেন? সমাজের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে, মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনছে এমন গবেষণা…
ইউজিসি চেয়ারম্যান: সরকার গবেষণার জন্য যে অর্থ দেয় তা কম। তবে সেই অর্থটাও যদি আরো ভালোভাবে ব্যবহার করা যেতো, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার হতো এবং যে যে খাতে ব্যবহার করা প্রয়োজন, সেসব খাতে যদি অর্থটা ব্যবহার করা হতো, তাহলে আমরা এখন গবেষণা খাতের যে অবস্থা দেখছি, তার চাইতে অনেক বেশি ভালো অবস্থা দেখতে পেতাম।
বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশে সাধারণত ‘অ্যাপ্লাইড রিসার্চ’কে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এর মানে হলো আমাদের যে সমস্যা আছে, সেই সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের অগ্রাধিকার দিয়ে গবেষণা করা উচিত। ‘অ্যাপ্লাইড রিসার্চ’ অথবা ‘একটা জিনিস আবিষ্কার করা’– গবেষণার অগ্রাধিকার তো এটাই হওয়া উচিত এখন।
বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যমান উপকরণ ব্যবহার করে সমাধান করার জন্য ‘অ্যাপ্লাইড রিসার্চ’ আমাদের দেশের জন্য বেশি প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের গবেষকদের অনেকে উন্নত দেশের ধরনে গবেষণায় অভ্যস্ত হয়েছেন। ওই দেশগুলোর গবেষণার বিষয়বস্তুর অগ্রাধিকার আর আমাদের দেশের গবেষণার বিষয়বস্তুর অগ্রাধিকার তো একরকম হবে না। আমরা চাই আমাদের সরকার যে অর্থ দেয়, সেই অর্থটা আমাদের দেশীয় সমস্যার সমাধানের জন্য যাতে কাজে লাগে।


