সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর পাসের হার নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে পাসের হার কমাকে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন হিসেবেও অভিহিত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত উন্নয়ন আসলে কীভাবে হতে পারে? সাফল্য বা ব্যর্থতা কোনটি? এসব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলেছেন টাইম অব বাংলাদেশের প্রতিবেদক আলীম হায়দার। এই শিক্ষাবিদ মনে করেন, সরকারের চাইলে শিক্ষাব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু সরকারকে তা অবশ্যই নীতিমালা মেনে সঠিক পদ্ধতিতে করতে হবে। নাহলে বিশৃঙ্খলভাবে অনেক উদ্যোগ নিয়েও কোনো লাভ হবে না, সেই পুরনো দুষ্টচক্রেই শিক্ষাব্যবস্থা বন্দী হয়ে থাকবে। টাইমস: এসএসসির ফলাফল কি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানহীনতার…
Author: আলীম হায়দার
স্কুল ও কলেজের ব্যবস্থাপনা কমিটির (গভর্নিং বডি) হাতে আবার শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই সিদ্ধান্ত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এতে শিক্ষা খাতে নতুন করে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে এবং শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে। এমনিতেই গত সোমবার প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার খারাপ ফলাফলের পর শিক্ষার মান নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কিছু কর্মকর্তা একজোট হয়ে এই অনিয়মের পথ তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। এই ব্যবস্থার বদলে…
বিগত প্রায় দুই দশকের মধ্যে দেশে এবার মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় সবচেয়ে কম শিক্ষার্থী পাস করেছে। তবে এই খারাপ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের নামকরা স্কুলগুলো বরাবরের মতোই চমৎকার ফলাফল করেছে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষার মানের এক চরম বৈষম্য। শিক্ষাবিদদের মতে, এই বৈপরীত্য দেখিয়ে দিচ্ছে দেশজুড়ে হাজার হাজার স্কুল গড়ে উঠলেও বহু প্রতিষ্ঠানেই মানসম্মত পড়াশোনা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর সারা দেশে গড়ে পাস করেছে মাত্র ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী, যার বিপরীতে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭১ শতাংশ। জাতীয় পর্যায় মোট পাসের হার গড়ে ৬ শতাংশ কমলেও ঢাকা বোর্ডে উল্টো ৪ শতাংশ বেড়েছে। শুধুমাত্র ঢাকা জেলাতেই…
নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে নানামুখী চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু ধীরগতির কাজে ২০২৭ সালেও শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতে সব বই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বাংলা মাধ্যমের পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ বেশ এগিয়ে গেলেও ইংরেজি মাধ্যমের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে যে ৪টি একদম নতুন বই যুক্ত করার কথা, সেগুলোর লেখার কাজ এখনো শুরুই হয়নি। বই ছাপানো, কেনাকাটা এবং বিতরণের জটিলতায় ২০২৫ ও ২০২৬ পরপর দুই বছরই কোটি কোটি শিক্ষার্থী সব বই ছাড়াই ক্লাস শুরু করতে বাধ্য হয়। ২০২৫ সালে প্রাথমিক স্তরের প্রায় ৯ কোটি ১৯ লাখ…
শিক্ষা খাতের অনাচার এবং শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে নিয়মিত প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের শিক্ষক নেটওয়ার্কের প্রথম সারির মুখ হিসেবে রাজপথেও সোচ্চার ছিলেন তিনি। চেয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গবেষণাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে। কিন্তু দুই বছর পর সেই আকাঙ্ক্ষা কতখানি পূরণ হয়েছে তা নিয়ে এই শিক্ষাবিদ খোলামেলা কথা বলেছেন টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদক আলীম হায়দারের সঙ্গে। টাইমস: আপনি জুলাই আন্দোলনে ছিলেন সক্রিয় মুখ। এত বড় পরিবর্তনের পরও কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। কেন এমন হলো? অধ্যাপক কামরুল: নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান আমরা খুব কাছে থেকে দেখেছি। তখনও মানুষের মধ্যে…
উচ্চশিক্ষার জন্য বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর প্রধান পছন্দ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় সেগুলো ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠার শুরুর দিকে ব্যবসায় শিক্ষার ওপর জোর দিলেও গত এক দশকে ‘বিবিএ মডেল’ থেকে বের হয়ে এসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। শিক্ষার্থীদের পছন্দের জগতেও পরিবর্তন এসেছে; এখন কৃষি, প্রযুক্তি ও প্রকৌশল বিষয়ক বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির প্রবণতা বাড়ছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষার্থী কমার পেছনে দুইটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ব্যবহারিক কাজ ও কোর্সের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম সত্ত্বেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের সময় অনেক শিক্ষার্থীই আর বিজ্ঞানকে…
ব্যাপক সংস্কারের ডামাডোলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থাপনাসহ পুরো শিক্ষাখাত। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে কারিকুলাম পরিবর্তন, স্মার্ট ক্লাসরুম নিশ্চিতকরণসহ আনন্দময় পাঠ-পদ্ধতি চালুর প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে গুরুত্ব বাড়ছে কারিগরি শিক্ষার। সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষায় গবেষণা ও উদ্ভাবনীমূলক শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া ঘোষণা আসছে বারবার। এ রকম এক সময়ে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক মামুন আহমেদ। ইতঃপূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (অ্যাকাডেমিক) দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। উচ্চশিক্ষা খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি টাইমস অব বাংলাদেশের প্রতিবেদক আলীম হায়দারের সঙ্গে কথা বলেছেন…
আশির দশকের শেষের দিকে এবং নব্বইয়ের দশকের শুরুতে দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তীব্র রাজনৈতিক আবহে এক ধরনের অস্থিরতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয় সেশনজট ও আবাসন সংকট। ফলে লাখো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন প্রলম্বিত হতে থাকে। এ কারণে নির্বিঘ্ন শিক্ষাজীবনের খোঁজে বিদেশ যেতে শুরু করে সামর্থ্যবানরা। ঠিক এ রকম এক সময়ে দেশে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর সাড়ে তিন দশকের দীর্ঘ পথচলায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে অনেক রকম আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক থাকলেও দিনশেষে উচ্চশিক্ষার অন্যতম মাধ্যম হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে এই খাত। ১৯৯২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা এখন ১১৬টিতে উন্নীত হয়েছে। তবে কার্যক্রম চলমান থাকা…
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীজুড়ে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দিনের বেলাতেও অনেক এলাকায় বাসিন্দাদের মশারির নিচে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু সংক্রমণের আশঙ্কাও তীব্র হচ্ছে। মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ, রায়েরবাজার, বসিলা, বেড়িবাঁধ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল ও কড়াইল বস্তিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, কয়েল, ধূপ কিংবা মশা মারার স্প্রে ব্যবহার করেও মশার উপদ্রব ঠেকানো যাচ্ছে না। সম্প্রতি সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাজধানীর অনেক এলাকায় মশা নিধনে জোরালো কোনো কার্যক্রম তারা দেখতে পাচ্ছেন না। দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বিশেষ মশক…
২০২৪ সালের তুলনায় চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৮০ হাজার কমে গেছে। এর মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রীদের সংখ্যার ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। যত পরীক্ষার্থী কমেছে, তার প্রায় চার ভাগের তিন ভাগই ছাত্র। পরিসংখ্যান বলছে, এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় গত ২০২৪ সালের চেয়ে পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ৮০ হাজার ২০৭ জন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত দুই বছরে ছাত্র ও ছাত্রীদের সংখ্যার মধ্যে একটা বড় অমিল দেখা গেছে। যেখানে ছাত্র পরীক্ষার্থী কমেছে এক লাখ ২৮ হাজার ৩১২ জন, সেখানে ছাত্রী কমেছে ৫১ হাজার ৮৯৫ জন। আরও চিন্তার বিষয়, দুই বছর আগে যারা এসএসসি…

