ঢাকার সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে দিনব্যাপী বইমেলা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজের অডিটোরিয়ামে এ আয়োজন হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। ঢাকার সাতটি বড় কলেজের অধ্যক্ষরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শোয়াইব জিবরান বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাস, বিবর্তন ও শিক্ষা চিন্তার বিকাশ নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি শিক্ষায় দলীয় শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ বন্ধ, মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা, নবম শ্রেণি থেকে বিভাগ চালু, শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বিজ্ঞান ও যুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসারের সুপারিশ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম শিক্ষার প্রসার ও প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল ডিজিটাল যুগে বই পড়া ও নিজস্ব ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, অনলাইনভিত্তিক বিশ্বসংস্কৃতির প্রভাবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বই পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক সচেতনতা ও স্বকীয়তা বাড়ানো সম্ভব।
তিনি জানান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ১৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বই পড়ার কার্যক্রম পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার প্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘লার্নিং হ্যাপিনেস’-এর ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ, ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রম ও আনন্দের মাধ্যমে শেখার পরিবেশ তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ চলছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে কতজন ‘ভালো মানুষ’ হিসেবে গড়ে উঠল, সেটিই শিক্ষার অন্যতম বড় লক্ষ্য। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামী প্রজন্মকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় বাংলাদেশের চিন্তামূলক রচনা সংগ্রহের ওয়েবসাইট প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন বই নিয়ে স্টল বসানো হয়।


